ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত সদ্য সমাপ্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেয়নি বাংলাদেশ। বিশ্বকাপে খেলতে না পারার আক্ষেপ এখনও কাঁটার মতো বিঁধে আছে।
মাঠে না নামার হতাশা, সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার কষ্ট সব মিলিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মনে যে ক্ষত তৈরি হয়েছে তা এক দিনে মুছে যাওয়ার নয়। তবে সময় থেমে থাকে না। হারানো সুযোগের দিকে তাকিয়ে না থেকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতিই এখন বড় কাজ। তাই একটি বিশ্বকাপের আক্ষেপ ভুলে আরেকটি বিশ্বকাপের পথচলাই শুরু করতে চাইছে বাংলাদেশ দল।
বিশ্বকাপে না খেলার প্রশ্ন উঠতেই টাইগার হেড কোচ ফিল সিমন্স আক্ষেপের হাসি নিয়ে বলেন, ‘খুব ভালো প্রশ্ন।’ বিরক্ত হওয়ার বদলে কোচ বরং বুঝিয়ে দিলেন, বিষয়টি এখনও ক্রিকেটারদের মনে কতটা গভীরভাবে রয়ে গেছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরদিনই পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ দল।
এদিন মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে সিমন্স বলেন, তিনি কাছ থেকে দেখেছেন ক্রিকেটারদের সেই কষ্ট। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দল এখন ধীরে ধীরে সেই হতাশা কাটিয়ে উঠছে বলেই মনে করছেন তিনি, ‘আমার মনে হয় আমরা এখন সেই পর্যায়ে আছি যে, এটাকে (বিশ্বকাপ) পেছনে ফেলতে শুরু করেছি। ছেলেদের জন্য এটা খুবই কষ্টদায়ক ছিল। ছেলেদের সঙ্গে কথা বলেছি আমি, ওরা কষ্ট পেয়েছে। তবে আমরা সেই পর্যায়ে যেতে শুরু করেছি (বিশ্বকাপকে পেছনে ফেলার) এবং আমার মনে হয় বিসিএল এখানে সহায়তা করেছে।’
সিমন্সের মতে, সদ্য শেষ হওয়া বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ ক্রিকেটারদের মনোযোগ আবার খেলায় ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এই টুর্নামেন্ট দীর্ঘদিন পর পঞ্চাশ ওভারের ক্রিকেটের পরিবেশে ফেরার সুযোগ তৈরি করেছে বলে মনে করেন সিমন্স, ‘এই ছোট্ট টুর্নামেন্টটি আমাদের ৫০ ওভারের ক্রিকেট খেলার আবহে ফিরতে সহায়তা করেছে এবং আমরা এখন এই তিনটি ম্যাচ নিয়ে ভাবছি।’
বিশ্বকাপের হতাশা ভুলতে বড় সুযোগ হয়ে এসেছে পাকিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন ওয়ানডে সিরিজও। প্রায় ১১ বছর পর বাংলাদেশে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে এসেছে পাকিস্তান। সবশেষ ২০১৫ সালে এই প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করেছিল টাইগাররা। এবার পাকিস্তান দলে অনেক নতুন মুখ থাকলেও তাদের হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই বলে মনে করেন সিমন্স, ‘পাকিস্তান ক্রিকেট থেকে উঠে আসা কাউকে খাটো করে দেখার উপায় নেই। কারণ সবসময়ই দারুণ সব প্রতিভা উঠে আসে সেখান থেকে। অভিষেক না হওয়া মানে কিছুই বোঝায় না। যথেষ্ট ক্রিকেট খেলেই তারা স্কোয়াডে জায়গা করে নিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নিশ্চিত করেই বলতে পারি তারা আবার ৩-০ ব্যবধানে হারতে চাইবে না। এই সিরিজে তারা শক্তভাবে ফিরে আসতে চাইবে। ২০২৭ বিশ্বকাপের পথে এটিই আমাদের শুরু।’ আগামী বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এখন থেকেই পরিকল্পনা সাজাতে চাইছে বাংলাদেশ।
সেই বিশ্বকাপের আগে সরাসরি জায়গা পাওয়ার লড়াইয়ে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আটে থাকতে হবে দলগুলোকে। বর্তমানে র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান দশে হলেও এ নিয়ে আপাতত খুব বেশি ভাবছেন না কোচ, ‘আমাদের দিক থেকে বিশ্বকাপে (সরাসরি) জায়গা করে নেওয়ার ব্যাপারটি ভাবনায় নেই। আমরা ওয়ানডে ক্রিকেটে আরও ভালো হয়ে উঠতে চাই। কোয়ালিফিকেশনের সময়ে যত ওপরে আমরা থাকতে পারি, তত ভালো।’
বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে দল গঠনের দিকেও নতুন পরিকল্পনা নিচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্ট। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশন মাথায় রেখে পেস আক্রমণকে গুরুত্ব দেওয়ার কথাই জানালেন সিমন্স, ‘অবশ্যই আমরা এখন থেকে তিন পেসার খেলানোর চেষ্টা করব। কারণ বিশ্বকাপ দক্ষিণ আফ্রিকায় এবং সেখানে আমাদের এরকমই করতে হবে। সামনে বেশিরভাগ সময় আমরা তিন পেসার নিয়েই খেলব।’
সময়ের আলো/এআর