লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে অতিদরিদ্র ও দুঃস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফের (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও দলীয়করণের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নীতিমালায় স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় তালিকা প্রণয়নের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে চলছে সেই পুরোনো ‘ভাগ-বাটোয়ারা’ আর পকেট রাজনীতি।
স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনের পরিবর্তনের পর সুষ্ঠু বণ্টনের আশা থাকলেও বর্তমানে অবস্থা দাঁড়িয়েছে ‘যেই লাউ সেই কদু’।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে কমলনগরের ৯টি ইউনিয়নের জন্য মোট ৪৫ হাজার ২১১টি কার্ডের বিপরীতে ৪৫২.১১০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি দুঃস্থ পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল প্রদান করতে হবে। একই পরিবারে একাধিক কার্ড দেওয়া যাবে না। প্রকাশ্য সভায় অতিদরিদ্র, ভূমিহীন ও দুঃস্থদের উপস্থিতিতে তালিকা চূড়ান্ত করতে হবে।
অভিযোগ উঠেছে, সরকারি এই নির্দেশনা কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ। মাঠ পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা নিজেদের খেয়াল-খুশিমতো কার্ড ভাগ করে নিচ্ছেন।
চর কাদিরা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ জানান, তিনি এক হাজার ৩০০ নামের তালিকা রাজনৈতিক দলকে দিয়েছেন।
অন্যদিকে একই ইউনিয়নের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রহিম মেম্বার জানান, সাধারণ প্রক্রিয়ায় নাম নেওয়ার সুযোগ নেই।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি হিসেবে তাকে এবং ইউনিয়ন মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ইতি বেগমকে তালিকা তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অন্যান্য ইউনিয়নের চিত্রও প্রায় একই। অনেক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান স্থানীয় দলীয় নেতাদের সন্তুষ্ট করতে এক হাজার থেকে দুই হাজার কার্ড আগাম দিয়ে দিয়েছেন।
নীতিমালার ৫ ও ৬ নম্বর শর্তানুযায়ী— ভূমিহীন, দিনমজুর বা নারী শ্রমিকের আয়ের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা থাকলেও, দলীয় প্রভাবে প্রকৃত বঞ্চিতরা বরাদ্দের বাইরে থেকে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ট্যাগ অফিসার এবং উপজেলা প্রশাসন যদি কঠোর তদারকি না করে, তবে সরকারের এই মানবিক সহায়তা প্রকৃত গরিবের ঘরে পৌঁছাবে না। লোক-দেখানো তালিকার আড়ালে সুবিধাবঞ্চিতদের হক দলীয় পকেটে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তীব্র হচ্ছে।
এই বিষয়ে কমলনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. রাহাত উজ জামান বলেন, এখানে ভাগ-বাটোয়ারার কোনো সুযোগ নেই। তালিকা আমার কাছে আসলে আমি বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখব এবং কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এফআর