নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জ এলাকায় পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শকের (এএসআই) কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া পিস্তলটি ২২ ঘণ্টা পর উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এক ছিনতাইকারীকে আটক করেছে পুলিশ। পরে তার তথ্যানুযায়ী, দুটি ম্যাগজিন ও ১৬টি গুলিসহ পিস্তলটি উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) মো. হাসিনুজ্জামান গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান।
এর আগে, গতকাল সোমবার দিবাগত রাত পৌনে তিনটার দিকে বন্দর উপজেলার উইলসন রোডের র্যালি আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্রটি উদ্ধার করে জেলা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
আটককৃত ছিনতাইকারীর নাম মো. মিশাল ওরফে বিশাল (৩০)।
পুলিশ জানিয়েছে, আটকের পর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক বিশাল জানিয়েছেন, অস্ত্রটি ছিনতাই কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে ছিনতাই করা হয়েছিল।
জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে বন্দর উপজেলার সোনাকান্দা ব্যাপারীপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছিনতাইকারী মিশালকে আটক করে পুলিশ। মিশাল শহরের দেওভোগ পানির ট্যাংক এলাকার প্রয়াত মিজানুর রহমানের ছেলে। তিনি পেশাদার ছিনতাইকারী।
প্রসঙ্গত, গত সোমবার ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের নিতাইগঞ্জ এলাকায় দায়িত্ব পালনের সময় শীতলক্ষ্যা পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই লুৎফর রহমানের ওপর হামলা চালায় মোটরসাইকেলে আসা তিন ছিনতাইকারী। তারা এএসআইয়ের ব্যবহৃত গুলিভর্তি পিস্তলটি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পরপরই জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক দল সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ওই দিন সন্ধ্যায় মিশালকে গ্রেফতার করে। পরে সোমবার দিবাগত রাত পৌনে তিনটার দিকে অভিযানকালে মিশালের দেখানো পথে, বন্দর উপজেলার উইলসন রোড এলাকার জনৈক শরিফ উদ্দিনের বাড়ির সামনে পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর কাপড়ের শপিং ব্যাগে মোড়ানো অবস্থায় ছিনতাই হওয়া পিস্তলটি উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া একটি চাপাতি, একটি ছোরা এবং একটি বড় চাকু উদ্ধার করা হয়।
এর আগে এ ঘটনায় সোমবার রাতে অস্ত্র ও গুলি ছিনতাইয়ের ঘটনায় শীতলক্ষ্যা পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই লুৎফর রহমান বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে দস্যুতার অভিযোগে মামলা করেছেন। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় অস্ত্র আইনে আরও একটি মামলা করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) মো. হাসিনুজ্জামান জানান, অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়েছে। মিশালের পাশাপাশি তার দুই সহযোগীকে আটক করা হয়েছে।
এফআর