বসন্তের ছোঁয়ায় রঙিন মহাসড়ক

মেহেদী হাসান লিটন, শ্রীপুর (গাজীপুর)

সারাদেশ

কংক্রিটের শহর, যানবাহনের গর্জন আর ব্যস্ততার নিরন্তর ছুটে চলার মাঝেও কখনো কখনো প্রকৃতি নীরবে নিজের উপস্থিতি জানান দেয়। দেশের অন্যতম

2026-03-11T05:51:50+00:00
2026-03-11T05:51:50+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
বসন্তের ছোঁয়ায় রঙিন মহাসড়ক
মেহেদী হাসান লিটন, শ্রীপুর (গাজীপুর)
প্রকাশ: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ৫:৫১ এএম 
সড়ক বিভাজকের ওপর ফুটে আছে অসংখ্য বাহারি ফুল। ছবি : সময়ের আলো
কংক্রিটের শহর, যানবাহনের গর্জন আর ব্যস্ততার নিরন্তর ছুটে চলার মাঝেও কখনো কখনো প্রকৃতি নীরবে নিজের উপস্থিতি জানান দেয়। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম সড়ক ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক এখন ঠিক তেমনই এক সবুজ-রঙিন বিস্ময়। বসন্তের বাসন্তী ছোঁয়া আর আগাম বর্ষার স্নিগ্ধতায় সেজে উঠেছে পুরো মহাসড়ক; পিচঢালা কালো পথের বুকে যেন রঙিন ফুলের কারুকাজ।

গাজীপুরের জৈনা বাজার থেকে জয়দেবপুর চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত বিস্তৃত অংশে সড়ক বিভাজকের ওপর ফুটে আছে অসংখ্য বাহারি ফুল। দূর থেকে তাকালে মনে হয় ব্যস্ত যানবাহনের মাঝখানে সবুজের এক দীর্ঘ বাগান ছড়িয়ে আছে। লাল, নীল, হলুদ, বেগুনি, সাদা রঙের মেলবন্ধন।

দুই পাশ দিয়ে ছুটে চলা বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার আর মোটরসাইকেলের ভিড়েও চোখ আটকে যায় বিভাজকের গাছগুলোর দিকে। জারুলের বেগুনি মায়া, কৃষ্ণচূড়ার অগ্নিরাঙা ছটা, রাধাচূড়ার কোমল আভা আর পলাশের উজ্জ্বল রং পথচারীদের মুগ্ধ করে। সন্ধ্যা নামলেই কামিনীর সুবাস ছড়িয়ে পড়ে বাতাসে মনে হয় ব্যস্ত সড়কটিও যেন এক মুহূর্তের জন্য থমকে দাঁড়িয়ে প্রকৃতির ঘ্রাণ নিচ্ছে। বকুল, গন্ধরাজ, বেলি, ছাতিম ও কনকচাঁপার সৌরভ মিশে এক অনন্য পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। ক্লান্ত যাত্রীদের মনে এই সবুজ যেন এক টুকরো প্রশান্তি এনে দেয়।

দেশের ‘লাইফলাইন’ হিসেবে পরিচিত এই মহাসড়কের জয়দেবপুর থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত প্রায় ৮৭ কিলোমিটার অংশ কয়েক বছর আগে চার লেনে উন্নীত করা হয়। সড়ক সম্প্রসারণের সময় শুধু যান চলাচলের সুবিধাই নয়, নান্দনিকতা ও নিরাপত্তাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিপরীতমুখী লেনের হেডলাইটের আলো যাতে সরাসরি চোখে না পড়ে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমে, সে উদ্দেশ্যে বিভাজকে গড়ে তোলা হয় সবুজ প্রাচীর। প্রায় ৪০ প্রজাতির লক্ষাধিক গাছ রোপণ করে এই দীর্ঘ সড়ককে এক পরিকল্পিত সবুজ বেষ্টনীতে রূপ দেওয়া হয়।

এখানে নীল কাঞ্চন, কামিনী, কৃষ্ণচূড়া, জারুল, রাধাচূড়া, অগ্নিস্বর, পলাশ, গৌরিচূড়া, ছাতিম, কদম, কাঠবাদাম, রক্তকরবী ও ঔষধি নিমসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে। ঋতুভেদে ফুল ফোটার পরিকল্পনায় সাজানো এই সবুজায়ন বছরের বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন রঙে ধরা দেয়। কখনো রক্তিম, কখনো বেগুনি, কখনো বা সাদা-সোনালি আবেশে।

প্রতিদিন এ মহাসড়ক ধরে অফিসে যাতায়াত করা এক ব্যাংক কর্মকর্তা শাহীন মাহমুদ, তিনি বলেন আগে এই সড়ক ছিল ধুলায় ভরা আর একঘেয়ে। এখন ফুল-সবুজে সেজে ওঠায় প্রতিদিন যাতায়াতেও মন ভালো হয়ে যায়। তবে কিছু জায়গায় বর্জ্য ফেলার কারণে সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে এ বিষয়ে আরও সচেতন হওয়া দরকার।

সৌখিন গাড়িচালক শ্রী মাধব চন্দ্র বলেন, এই রাস্তায় এখন গাড়ি চালাতে আলাদা আনন্দ পাই। সবুজের মাঝে দিয়ে চলতে চলতে ক্লান্তি অনেকটাই কমে যায়। প্রাণ ভরে নিশ্বাস নিতে খুবই ভালো লাগে।

নদী ও প্রকৃতি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান পরিবেশবিদ খোরশেদ আলম বলেন, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের সড়ক বিভাজকের সবুজ গাছপালা ও রঙিন ফুল মহাসড়কের সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি ধুলাবালি ও শব্দদূষণ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করি। 

এই সবুজ বেষ্টনী যাত্রীদের মনে স্নিগ্ধতা আনে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক। তবে কিছু স্থানে গাছ নষ্ট হওয়া ও বর্জ্য ফেলার দৃশ্য দেখা যায়। নিয়মিত পরিচর্যা, নতুন করে বৃক্ষরোপণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই সৌন্দর্য রক্ষা করা জরুরি।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. তারেক হোসেন বলেন, মহাসড়কের সৌন্দর্যবর্ধন ও সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই পরিকল্পিতভাবে এই বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে। কয়েকটি স্থানে গাছ মারা গেলেও আসন্ন বর্ষা মৌসুমে সেখানে নতুন করে রোপণ করা হবে। নিয়মিত পরিচর্যার জন্য নিযুক্ত শ্রমিকরাও কাজ করে যাচ্ছেন।

নগরায়ণের চাপে যখন একের পর এক সবুজ হারিয়ে যাচ্ছে, তখন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক যেন হয়ে উঠেছে এক জীবন্ত উদাহরণ পরিকল্পিত উন্নয়ন ও পরিবেশ সচেতনতা একসঙ্গে চলতে পারে। ব্যস্ত সড়কের বুকেও গড়ে উঠতে পারে সৌন্দর্য, নিরাপত্তা আর মানসিক প্রশান্তির সমন্বিত এক সবুজ স্বপ্ন। এই স্বপ্ন টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ, সচেতন মনোভাব আর ভালোবাসা কারণ সবুজ বাঁচলে তবেই বাঁচবে প্রাণ, বাঁচবে পথ, বাঁচবে ভবিষ্যৎ।


  বিষয়:   ঢাকা  ময়মনসিংহ  মহাসড়ক 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: