ইরানকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের কয়েকজন ডেমোক্র্যাট সিনেটর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, পরিস্থিতি আরও জটিল হলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের মাটিতে মার্কিন স্থলবাহিনী পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) এক গোপন ব্রিফিং শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সিনেটররা এই উদ্বেগের কথা জানান। তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা যদি আরও তীব্র হয়, তবে তা সরাসরি সামরিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
নিউ হ্যাম্পশায়ারের ডেমোক্র্যাট সিনেটর জিন শাহীন জানান, ইরানের পক্ষে রাশিয়ার সমর্থন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। তার দাবি, রাশিয়া ইতোমধ্যে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে তেহরানকে সহায়তা করছে। পাশাপাশি রাশিয়া, চীন, ইরান এবং উত্তর কোরিয়ার মধ্যে একটি কৌশলগত সমন্বয় গড়ে উঠছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন তিনি।
সিনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটির বৈঠকের পর শাহীন প্রশাসনের কাছে বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কংগ্রেসে ব্যাখ্যা দেওয়ার আহ্বান জানান। তার মতে, জনগণের সামনে যুদ্ধের সম্ভাব্য প্রভাব, খরচ এবং কৌশল নিয়ে স্বচ্ছ আলোচনা হওয়া জরুরি।
আরও পড়ুন
এদিকে মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের সঙ্গে পরিচিত দুটি সূত্র জানিয়েছে, রাশিয়া ইরানকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও নৌবাহিনীর জাহাজ সম্পর্কিত তথ্য সরবরাহ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কানেকটিকাটের সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেন্থালও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গোপন ব্রিফিং শেষে তিনি বলেন, পরিস্থিতি এমন দিকে এগোচ্ছে বলে মনে হচ্ছে যেখানে ইরানের ভূখণ্ডে মার্কিন সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনও সরাসরি স্থলবাহিনী পাঠানোর বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ঘোষণা দেননি। কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন থাকায় তার ইরান নীতি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সমর্থন পাচ্ছে। যদিও কিছু আইনপ্রণেতা সম্ভাব্য যুদ্ধের খরচ, সময়কাল এবং সেনাদের ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
ব্লুমেন্থাল আরও বলেন, রাশিয়ার সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা এই সংকটকে আরও বিপজ্জনক করে তুলতে পারে। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা পরিস্থিতিকে বড় আকারের সংঘাতে রূপ দিতে পারে।
সিনেটরদের মতে, এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের উচিত যুদ্ধের সম্ভাব্য প্রভাব, ব্যয় এবং ঝুঁকি সম্পর্কে মার্কিন জনগণকে আরও বিস্তারিতভাবে অবহিত করা।