গাইবান্ধা পৌর শহরের সরকার পাড়ার এক স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় তার বাবা–মায়ের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র ও কুড়াল নিয়ে পরিবারের সদস্যদের ওপর চড়াও হয়। এতে কিশোরীর বাবা-মাসহ চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলার পর আশপাশের কয়েকটি দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও উঠেছে।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১০ মার্চ) গাইবান্ধা সদর মামলা হয়েছে। এর আগে রোববার বিকেলে গাইবান্ধা পৌরসভার কাউয়া চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র, প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শহরের আসাদুজ্জামান উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে (১৩) কিছুদিন ধরে এলাকার কয়েকজন যুবক উত্ত্যক্ত করছিল। স্কুলে যাওয়া–আসার পথে প্রায়ই তাকে অশ্লীল মন্তব্য ও বিরক্ত করা হতো বলে অভিযোগ পরিবারের।
পরিবারের সদস্যরা জানান, কয়েকদিন আগে মেয়েকে উত্ত্যক্ত করার ঘটনায় তারা অভিযুক্তদের সতর্ক করেছিলেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটিও হয়। এরপর থেকেই অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।
রোববার বিকেলে সেই বিরোধকে কেন্দ্র করে একদল যুবক সংঘবদ্ধভাবে শিক্ষার্থীর বাড়ি সংলগ্ন কাউয়া চত্বর এলাকায় এসে তার পরিবারকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীদের হাতে ছিল চায়নিজ কুড়াল, ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা।
হামলায় কিশোরীর বাবা রঞ্জু মিয়াকে চায়নিজ কুড়াল দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। এতে তিনি গুরুতর জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তার স্ত্রী শারমিন বেগমকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে আহত করা হয়। এ সময় পরিবারের আরও দুই স্বজনকে মারধর করে রাস্তায় ফেলে রেখে যায় হামলাকারীরা।
ঘটনার সময় আশপাশের লোকজন আতঙ্কে ছুটাছুটি শুরু করেন। স্থানীয় কয়েকজন বলেন, হামলার পর অভিযুক্তরা এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে দোকানে ভাঙচুর চালায় এবং কিছু মালামাল লুটপাট করে দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহত চারজনের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর।
আহত কিশোরীর মা বলেন, আমার মেয়েকে অনেক দিন ধরে উত্ত্যক্ত করছিল। আমরা প্রতিবাদ করায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের ওপর হামলা করেছে। আমার স্বামীকে ও আমাকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়েছে। আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় আছি।
এ ঘটনায় শারমিন বেগম গাইবান্ধা সদর থানায় ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা করেছেন। মামলায় মো. মিজান মিয়া (১৯), মো. রাকিব বাবু (১৯), মো. রফিক মিয়া, মো. লিমন মিয়া (২০), মো. ভোন্দালু মিয়া (২৫), মো. রতন মিয়া (৩৫), মো. রোমান মিয়া (২৫) সহ মোট ১৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার ঘটনা এলাকায় নতুন নয়। অনেক সময় ভুক্তভোগী পরিবার সামাজিক চাপে প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে চায় না। তবে এই ঘটনার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
এদিকে স্থানীয়রা বলছেন, একটি কিশোরীকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় তার পরিবারের ওপর এমন হামলা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং এটি সামাজিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছে, তারা এখন আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তাদের দাবি, দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আরও বাড়তে পারে।
গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের অভিযান চলছে।
সময়ের আলো/জোই