আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে সজীব চৌধুরী আকাশ (২৫) নামে এক যুবদল কর্মী নিহত হয়েছেন।
বুধবার (১১ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গুপ্তখালী গ্রামের একটি টমেটো খেত থেকে সজীবের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত সজীব মীরসরাই উপজেলার আবুতোরব এলাকার শাহ আলমের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পরিবারের সঙ্গে সীতাকুণ্ডে তার নানার বাড়িতে বসবাস করতেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে মুরাদপুর ইউনিয়নের গুপ্তখালী এলাকায় বিএনপি নেতা আবদুল আলিম গ্রুপ ও ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহাবুদ্দিন গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হন। সংঘর্ষের পর থেকেই যুবদল কর্মী সজীব নিখোঁজ ছিলেন।
এ ঘটনায় রাতেই পরিবারের পক্ষ থেকে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। পরে আজ বুধবার সকালে স্থানীয়রা গুপ্তখালী গ্রামের একটি সবজি খেতে সজিবের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৪ নম্বর ওয়ার্ড থেকে ইউপি সদস্য পদে বিএনপি নেতা আবদুল আলিম ও যুবদল নেতা শাহাবুদ্দিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল।
তবে যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহাবুদ্দিন দাবি করেন, নিহত সজীব তার সিএনজি অটোরিকশা গ্যারেজ দেখাশোনা করতেন। কিছুদিন আগে একটি সিএনজি অটোরিকশার ব্যাটারি চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সালিশ বসে। সেই ঘটনার জের ধরেই আবদুল আলিম গ্রুপের লোকজন সজিবকে হত্যা করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
একই ঘটনায় তার পক্ষের আরও পাঁচজনকে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহিনুল ইসলাম বলেন, টমেটো খেত থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে স্থানীয় দুই সম্ভাব্য মেম্বার প্রার্থীর মধ্যে বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
এফআর