সাতক্ষীরার অত্যন্ত প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্রীয় মন্দির ‘মায়ের বাড়ি’ কমপ্লেক্সে এক দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দিবাগত রাত তিনটার দিকে দুর্বৃত্তরা মন্দির কমপ্লেক্সের পাঁচটি পৃথক মন্দিরের তালা ভেঙে প্রতিমার স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থসহ প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে।
জেলা মন্দির সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিত্যানন্দ আমিন জানান, পুরাতন সাতক্ষীরা মায়ের বাড়ি মন্দির এলাকায় মেসে থাকা কয়েকজন ছাত্র বুধবার ভোররাত সাড়ে তিনটা থেকে চারটার দিকে চুরির বিষয়টি জানতে পেরে তাদেরকে জানায়। পরে ভোরে তারা মন্দিরে গিয়ে দেখেন, কালী মন্দির, অন্নপূর্ণা মন্দির, জগন্নাথ মন্দির, চৈতন্যদেব মন্দির ও রাধা-গোবিন্দ মন্দিরের সবকটি দরজার তালা ভাঙা এবং ভেতরে সবকিছু তছনছ করা।
তিনি জানান, চুরি হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে চার ভরি ওজনের দুই জোড়া স্বর্ণের বালা, এক ভরি ওজনের দুই জোড়া শাঁখা, চার আনা ওজনের এক জোড়া কানের দুল, আট আনা ওজনের একটি ‘মায়ের জিভ’, আট আনা ওজনের একটি চেইন, দশ আনা ওজনের একটি নথ, চার আনা ওজনের দুই জোড়া পেটি, প্রায় পাঁচ ভরি রুপা, দানবাক্সের নগদ সাত হাজার টাকা এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী। সব মিলিয়ে প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল লুট হয়েছে।
ঘটনাস্থলে থেকে একটি তালা কাটার মেশিন উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মন্দির সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য ও শিক্ষক দীপাসিন্ধু তরফদার বলেন, দুই দিন আগে শহরের কাটিয়া মন্দিরেও চুরির ঘটনা ঘটেছে। বারবার মন্দিরে চুরির ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। আমরা দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার এবং মন্দিরের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানাই।
মন্দিরের কর্মকর্তা অসীম দাশ সোনা বলেন, মন্দিরের সিসিটিভি ফুটেজে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি প্রশাসনের কাছে দ্রুত চোরদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বিষ্ণপদ পাল জানান, চোর শনাক্ত এবং চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এফআর