অমর একুশে গ্রন্থমেলায় শিশু-কিশোর উপযোগী বইয়ে আলাদা নজর পড়ে। রঙিন প্রচ্ছদ, অলংকরণ ও নানা গল্পের টানে মেলায় ভিড় করে ছোট্ট পাঠকরা। শিশুদের বইয়ের তুলনামূলক বেশি দাম নিয়ে অনেক অভিভাবক অসন্তুষ্ট। পাশাপাশি বইয়ের কাগজ, মুদ্রণমান এবং জটিল ভাষা, অগভীর গল্প নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে কোনো কোনো ক্রেতার।
গতকাল শিশুদের গল্প, ছড়া, রঙিন ছবি ও শিক্ষামূলক বইয়ের স্টলে ছোট্ট পাঠকদের ভিড় দেখা গেছে। তবে দাম শুনে অনেক ক্রেতার দ্বিধা দেখাও চোখ এড়ায় না। কেউ কেউ বই দেখেই রেখে দিচ্ছেন। কেউ দুয়েকটা কিনে ফিরছেন।
অভিভাবকরা বলছেন, শিশুদের বইয়ের প্রতি আগ্রহ থাকলেও দামে পড়তা হচ্ছে না। ফলে ইচ্ছা থাকলেও কেনা হচ্ছে না।
অনেকেই বাছাই করে সীমিতসংখ্যক বই কিনছেন। আবার কেউ কেউ শুধু দেখেই ফিরে যাচ্ছেন।
অন্যদিকে শিশুতোষ বইয়ের মান নিয়েও অনেক ক্রেতার প্রশ্ন হয়েছে। তাদের মতে, কিছু বইয়ে গল্পের মৌলিকতা ও গভীরতার অভাব আছে। অনেক ক্ষেত্রে একই ধরনের গল্প বা পরিচিত কাহিনির সামান্য বদলে সংস্করণ হচ্ছে। কিছু বইয়ের ভাষা শিশুমনের সঙ্গে যায় না। কোথাও ভাষা অতিরিক্ত জটিল, আবার কোথাও গল্প অগভীর।
রাজধানীর মিরপুর থেকে আসা অভিভাবক সাইফুল ইসলাম সময়ের আলোকে বলেন, বাচ্চাদের জন্য কয়েকটি বই কিনতে চেয়েছিলাম। দাম বেশি হওয়ায় দুই-তিনটার বেশি নেওয়া সম্ভব হয়নি। ছোটদের বইয়ের মান নিয়ে অভিভাবক রুমানা আক্তার বলেন, শিশুদের বইয়ের গল্পের বিষয়বস্তুও গুরুত্বপূর্ণ। কিছু বইয়ে গল্প অপ্রাসঙ্গিক। দাম বেশি হলেও যদি মান ভালো না থাকে, তখন তা কেনার মানে নেই।
বনানী থেকে এসেছেন নাদিয়া পারভীন। চার বছর বয়সি পাঠকের সঙ্গী তিনি। বলেন, মেলায় শিশুদের বইয়ের দাম বেশি। কয়েক পৃষ্ঠার বই ২০০ থেকে ৪০০ টাকা। দাম কমানোর দিকে নজর দিতে হবে। তবে দাম কমালে হবে না, মানও ভালো হতে হবে বলে মত তার।
সময় প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী শাহিন আহমেদ বলেন, আমাদের সব ছবিই হাতে আঁকা। তাই খরচ একটু বেশি। অনেক প্রকাশনী প্রাইরেসি করে। এতে মূল বইয়ের চেয়ে মান অনেক কমে যায়।
নলেজ মিডিয়া পাবলিকেশনের বিক্রয়কর্মী ইমরান হাসান বলেন, ছোটদের বই একটু মোটা ও রঙিন কাগজে হয়। এ জন্যই দামটা একটু বেশি। গত সোমবার ছিল অমর একুশে গ্রন্থমেলার ১৪ তম দিন। সাপ্তাহিক ছুটি ছাড়া অন্যান্য দিনের মতোই পাঠক ছিল কম। এদিন তথ্যকেন্দ্রে নতুন বই জমা পড়েছে ১১৩টি।
মূলমঞ্চ : বেলা ৩টায় মূলমঞ্চে হয় এম শমসের আলী শীর্ষক আলোচনা। প্রবন্ধ পড়েন এবিএম ওবায়দুল ইসলাম। আলোচনা করেন ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী। সভাপতি ছিলেন আরশাদ মোমেন।
লেখক বলছি : লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজের বই নিয়ে আলোচনা করেন কবি হাসান হাফিজ, কবি শাহীন রেজা এবং কবি মাসুদুল হক।
সাংস্কৃতিক পরিবেশনা : বিকাল ৪টায় আবৃত্তি করেন কামাল মিনা, এ বি এম সোহেল রশিদ, শায়লা আহমেদ। গান করেন সাইদুর রহমান বয়াতি, অধ্যাপক মাহবুবা বেগম, জি এম জাকির হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম, শাহীনুর ইসলাম, বাউল সুভাষ বিশ্বাস, মিন্টু বাউল, নিশাত আনজুম সাকি এবং এস এম শামীম আক্তার।
আজকের আয়োজন : বৃহস্পতিবার মেলা শুরু হবে দুপুর ২টায়। চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। বেলা ৩টায় মূলমঞ্চে মুস্তাফা জামান আব্বাসী শীর্ষক আলোচনা হবে। প্রবন্ধ পড়বেন শারমিনী আব্বাসী। আলোচনা করবেন আশরাফুজ্জামান বাবু। সভাপতি থাকবেন ওয়াকিল আহমদ। বিকাল ৪টায় হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
সময়ের আলো/আআ