ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির কঠোর অবস্থান এবং পারস্য উপসাগরে জ্বালানি তেলের জাহাজে ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের সীমা ছাড়িয়ে গেছে, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই তেলের দামও পাল্লা দিয়ে বেড়ে ৯৫ ডলার অতিক্রম করেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম এভাবে চড়া থাকলে বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিতে পারে এবং বড় বড় দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থমকে যেতে পারে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বার্তায় মোজতবা খামেনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, শত্রুদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখা হবে।
সাবেক নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে তিনি ওই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে আরও বড় ধরনের হামলা চালানোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।
তার এই অনমনীয় ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA) সতর্ক করেছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ তেলের বাজারের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সরবরাহ সংকট তৈরি করছে।
উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই যাতায়াত করে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের ৩২টি দেশ তাদের জরুরি মজুত থেকে রেকর্ড ৪০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিলেও তেলের দামে তার কোনো ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকায় প্রতিদিন বাজার থেকে প্রায় দেড় কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল হারিয়ে যাচ্ছে, ফলে জরুরি ভিত্তিতে ছাড়া ওই মজুত তেল মাত্র ২৬ দিনের মধ্যেই ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এরই মধ্যে ইরাকি জলসীমায় দুটি বিদেশি ট্যাঙ্কারসহ গত দুই দিনে পারস্য উপসাগরে অন্তত ছয়টি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
যাতায়াতের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং তেলের মজুদ রাখার জায়গা (স্টোরেজ ট্যাংক) পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় সৌদি আরব, ইরাক ও আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো তাদের তেল উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে।
১০ মার্চের তথ্য অনুযায়ী, দৈনিক তেল উৎপাদনের পরিমাণ অন্তত ১ কোটি ব্যারেল কমেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রভাবে এশিয়া থেকে শুরু করে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার বাজারেও বড় ধরনের ধস নেমেছে।
বর্তমানে পুরো বিশ্ব উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার সঙ্গে এই সংঘাতের পরবর্তী পরিণতির দিকে তাকিয়ে আছে।
সময়ের আলো/আরবিএন