আফগানিস্তানের কান্দাহার বিমানবন্দরের কাছে বেসরকারি বিমান সংস্থা কাম এয়ারের জ্বালানি ডিপোতে বোমা হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। শুক্রবার (১৩ মার্চ) তালেবান সরকারের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে। উত্তেজনা প্রশমনের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সংঘাত আবারও বেড়ে গেছে।
তালেবান আরও জানিয়েছে, রাতভর চালানো এই হামলায় কাবুল এবং পূর্বাঞ্চলীয় নাঙ্গারহার প্রদেশের আবাসিক এলাকায়ও আঘাত হেনেছে। এতে শিশুসহ ছয়জন নিহত এবং ১২ জনের বেশি বেসামরিক মানুষ আহত হয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ৩৫ বছর বয়সী মুরসেলিন বলেন, যখন আমরা জেগে উঠলাম, তখন সর্বত্র ধুলো দেখছিলাম। জানালা ভাঙা ছিল এবং আমরা কিছুই শুনতে পাচ্ছিলাম না। তিনি বলেন, কয়েক মিনিট পরে আমি আমার বাচ্চাদের কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম।
তিনি আরও বলেন, তারা অত্যন্ত ভীত ছিল এবং চিৎকার করছিল। আমার বোন এবং তার দুই সন্তানও হামলায় আহত হয়েছে।
তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, এই কোম্পানি (কাম এয়ার) বেসামরিক বিমান সংস্থাগুলোর পাশাপাশি জাতিসংঘের বিমানগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ করে। পাকিস্তান রাজধানী কাবুলসহ অন্যান্য এলাকায়ও বোমা হামলা চালিয়েছে। কিছু স্থানে বেসামরিক বাড়িঘর লক্ষ্যবস্তু করা হওয়ায় নারী ও শিশু নিহত হয়েছে। এর জবাব দেওয়া হবে।
গত মাসে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে পাকিস্তানি বিমান হামলার ফলে লড়াই শুরু হয়। ইসলামাবাদ বলেছে, সশস্ত্র গোষ্ঠীদের শক্ত ঘাঁটি লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। আফগানিস্তান এই হামলাকে সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করে পাল্টা হামলা শুরু করে।
সর্বশেষ হামলার আগে সাম্প্রতিক কয়েক দিনে আফগানিস্তানে পাকিস্তানের কোনো বিমান হামলার খবর দুই পক্ষের কেউই জানায়নি। এ ছাড়া প্রায় দুই হাজার ৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তে স্থল সংঘর্ষও কমে এসেছিল। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের আগস্টে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর থেকে পাকিস্তানে হামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। পাকিস্তান সরকারের দাবি, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে টিটিপি (তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান) ও অন্যান্য গোষ্ঠীগুলো সীমান্ত দিয়ে পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। এর জেরেই দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘাত শুরু হয়। একসময় যে সব গোষ্ঠীকে মিত্র মনে করা হতো, এখন তারা দুই দেশের মধ্যে দ্বন্দ্বের উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে তালেবান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, হামলার বিষয়গুলো আসলে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা।
সময়ের আলো/আআ