চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদে পবিত্র রমজানের শেষ শুক্রবারের জুমার নামাজে লক্ষাধিক মুসল্লি একসঙ্গে অংশ নিয়েছেন।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল থেকেই চাঁদপুর জেলাসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা হাজার হাজার মানুষের ঢলে মুখরিত হয়ে ওঠে মসজিদ প্রাঙ্গণ।
বেলা ১১টার মধ্যেই বিশাল এই মসজিদের প্রথম ও দ্বিতীয় তলা কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।
মসজিদ ও সংলগ্ন মাঠে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় মুসল্লিদের কাতার চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের স্টেশন রোড থেকে হাজীগঞ্জ পূর্ব বাজারের বড় ব্রিজ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে ওই মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
দূর-দূরান্ত থেকে আসা বিপুলসংখ্যক মুসল্লির সুবিধার্থে মসজিদ কর্তৃপক্ষ নিজস্ব মাঠ ছাড়াও পাশের আহমাদিয়া আলিয়া মাদরাসা মাঠ ও ভবন, জামেয়া আহমাদিয়া কওমি মাদরাসা ভবন, হাজীগঞ্জ টাওয়ার, রজনীগন্ধা মার্কেট, হাজীগঞ্জ প্লাজা, বিজনেস পার্ক, প্রাইম ব্যাংক ভবন এবং সাবেক পৌরসভা ভবনের ছাদে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
এবারের জামাতে অভিভাবকদের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক শিশু-কিশোর এবং নারী মুসল্লিদেরও অংশগ্রহণ করতে দেখা গেছে। জুমার নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনার পাশাপাশি ফিলিস্তিন ও ইরানের মুসলমানদের জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়।
নামাজের ইমামতি ও মোনাজাত পরিচালনা করেন খতিব মুফতি আব্দুর রউফ। নামাজ পরবর্তী সময়ে অনেক মুসল্লিকে মসজিদের ভেতরে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও জিকির-আজকারে সময় অতিবাহিত করতে দেখা যায়।
নামাজে অংশ নেওয়া মুসল্লি টিপু সুলতান জমিদার জানান, প্রতি বছরই তিনি এই ঐতিহাসিক মসজিদে জুমাতুল বিদা আদায় করেন। হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে একত্রে নামাজ পড়তে পেরে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং এখানকার ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেন।
লক্ষ্মীপুর থেকে আসা কলিমউল্যাহ জানান, আগে থেকেই নিয়ত ছিল বড় মসজিদে নামাজ পড়ার, তাই বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে এখানে এসেছেন। হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারাকে তিনি ভাগ্যের বিষয় বলে মনে করেন।
মসজিদের মোতাওয়াল্লি শাকিল আহমেদ প্রিন্স জানান, প্রতি বছরই জুমাতুল বিদা উপলক্ষে এখানে বিশাল জামাতের আয়োজন করা হয় এবং দিন দিন মুসল্লির সংখ্যা বাড়ছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং সুশৃঙ্খলভাবে নামাজ আদায়ের লক্ষ্যে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে তিনি বলেন, সবার সহযোগিতায় অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে নামাজ সম্পন্ন হয়েছে।
সময়ের আলো/আরবিএন