কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চরফরাদী ইউনিয়নে আসন্ন ঈদ উপলক্ষে বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন মির্জাপুর আলিম মাদ্রাসায় চাল বিতরণকালে দেখা যায়, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী জনপ্রতি ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও অনেক ব্যক্তি একাধিক কার্ড ব্যবহার করে চাল উত্তোলন করছেন।
অনেক ক্ষেত্রে মূল সুবিধাভোগী উপস্থিত না থাকায় অন্যের মাধ্যমে কার্ড পাঠিয়ে চাল সংগ্রহের সুযোগ নেওয়া হচ্ছে, যার ফলে প্রকৃত অনেক দরিদ্র মানুষ এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
সরেজমিনে তদন্তে দেখা গেছে, বিতরণকৃত বেশ কিছু কার্ডে সুবিধাভোগীর নাম ও ঠিকানা উল্লেখ নেই, যা প্রকৃত উপকারভোগী শনাক্তকরণে জটিলতা সৃষ্টি করছে।
আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য নাসিমা আক্তারের বিরুদ্ধে।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাকে মাদ্রাসার সামনে ১০ কেজি ওজনের চালের প্যাকেট ২০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, খাবারের জন্য চাল নিলেও মান ভালো না হওয়ায় তিনি তা বিক্রি করে দিয়েছেন। তবে তিনি নিজে কীভাবে এই চাল উত্তোলন করেছেন, সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
ইউনিয়ন পরিষদ সচিব মো. মোবারক হোসেন কার্ডে নাম-পরিচয় না থাকার বিষয়টি স্বীকার করে জানান, এক ব্যক্তির একাধিক কার্ড নিয়ে আসার ঘটনায় সকালে কিছুটা বাকবিতণ্ডাও হয়েছিল।
অন্যদিকে ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান দাবি করেন, এক ব্যক্তির একাধিক কার্ড নিয়ে চাল নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। মহিলা মেম্বারের চাল বিক্রির বিষয়টি তিনি দেখেননি, তবে অভিযোগ শুনে তাকে শাসন করেছেন বলেও জানান তিনি।
আসন্ন ঈদ উপলক্ষে চরফরাদী ইউনিয়নে মোট ৩ হাজার ৫৪৫ জন সুবিধাভোগীর মাঝে এই চাল বিতরণের কথা থাকলেও অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের কারণে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুপম দাস জানান, তিনি বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
সময়ের আলো/আরবিএন