চাঁদপুর নদীঘাটে প্রতিদিন ট্রলারে করে আসছে হাজার হাজার অপরিপক্ব তরমুজ। বিভিন্ন চরাঞ্চল ও তরমুজ উৎপাদনকারী এলাকা থেকে এসব তরমুজ ট্রলারের মাধ্যমে ঘাটে আনা হচ্ছে। পরে সেখান থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা ট্রাক ও পিকআপযোগে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠাচ্ছেন।
ক্রেতাদের অভিযোগ, মৌসুমের শুরুতেই অধিক লাভের আশায় অনেক কৃষক ও ব্যবসায়ী অপরিপক্ব তরমুজ বাজারজাত করছেন। এতে একদিকে যেমন ক্রেতারা কাক্সিক্ষত স্বাদ পাচ্ছেন না, অন্যদিকে বাজারে তরমুজের মান নিয়েও দেখা দিচ্ছে প্রশ্ন।
চাঁদপুর শহরের চৌধুরী ঘাট এলাকায় দেখা গেছে, ভোর থেকে শুরু করে দিনভর ট্রলার ভিড়ছে তরমুজ বোঝাই করে। শ্রমিকরা দ্রুত তরমুজ নামিয়ে সেগুলো আড়তে তুলে দিচ্ছেন। পরে এসব তরমুজ ট্রাকসহ বিভিন্ন পরিবহন করে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে।
ভোলা থেকে তরমুজচাষি লোকমান ও পটুয়াখালী থেকে আসা তরমুজচাষি আবু তালিব বলেন, এই বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় তরমুজের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। ভোলা, বরিশাল, পটুয়াখালীসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলের তরমুজ প্রতি বছর চাঁদপুর চৌধুরী ঘাটে নিয়ে আসা হয়। এখানে তরমুজের দাম বেশি এবং দেশের বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করার সুবিধা থাকায় ট্রলারে করে চাষিরা এখানে তরমুজ নিয়ে আসেন। তবে রমজানের শুরুতে বাজারে কিছু অপরিপক্ব তরমুজ আসায় তরমুজ ব্যবসায়ী ও চাষিদের কিছুটা বদনাম হয়েছে। তবে আমরা যেসব তরমুজ এনেছি সব পরিপক্ব। গত বছরের তুলনায় এ বছর তরমুজের দাম কম আছে। ঈদের পর পুরোপুরি সিজন হবে, তখন দাম আরও কমে আসবে।
আরও পড়ুন
ক্রেতা জমির তালুকদার বলেন, বাজারে অধিকাংশ তরমুজ এখন অপরিপক্ব। ব্যবসায়ীরা দাম কম বললেও আমাদের কাছে একদমই কম মনে হয় না। প্রতি বছর তরমুজের সিজন এলে একটি সিন্ডিকেট দাম বাড়িয়ে দেয়। অপরিপক্ব তরমুজ বাজারে বিক্রি বন্ধ এবং দাম নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। এতে করে ক্রেতারা যেমন ভালো মানের ফল পাবেন, তেমনি কৃষকরাও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে পারবেন বলে মনে করি।
চৌধুরী ঘাট এলাকার তরমুজ ব্যবসায়ী মো. ফরিদ হোসেন বলেন, এই বছর রমজানের শুরুতে তরমুজ তেমন কেনাবেচা শুরু না হলেও শেষ সময়ে এসে তরমুজের কেনাবেচা শুরু হয়েছে। এ সময় তরমুজ পুরোপুরি পাকা শুরু হয়েছে। আগের কিছু তরমুজ অপরিপক্ব থাকলেও এখনকার তরমুজ পুরোপুরি পরিপক্ব। বাজার দর এবং বিক্রি খুব ভালো হচ্ছে। চাষিরও খুশি ব্যবসায়ীরাও খুশি। এখনকার বাজারে বড় আকারের ১০০ তরমুজ ৩০ হাজারের বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া মাঝারি আকারে ১০০ তরমুজ ১৫-২০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর ছোট আকারের ১০০ তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ১০ হাজারে। তবে ক্রেতারা বারবার যে সিন্ডিকেটের কথা বলেন, আসলে ব্যবসায়ীদের এমন কোনো সিন্ডিকেট নেই।
এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল ইমরান জানান, ক্রেতারা যাতে নির্বিঘ্নে কেনাকাটা করতে পারেন, সেই লক্ষ্যে আমরা রমজানের শুরু থেকেই বাজারে অভিযান পরিচালনা করে আসছি। শুধু তাই নয় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ায় আমরা তাদের জরিমানার আওতায় নিয়ে এসেছি। তরমুজ নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে আমরা সেখানেও অভিযান পরিচালনা করব এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।
এএডি/