মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় ইরাক থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহার শুরু করেছে ইতালি। ইরাকি কুর্দিস্তানের এরবিলে অবস্থিত ক্যাম্প সিঙ্গারা বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রাতভর চালানো ওই হামলায় ঘাঁটির একটি রেস্তোরাঁ ও দুটি সামরিক যান ধ্বংস হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। সেখানে ন্যাটোর প্রায় ৩০০ সেনা অবস্থান করছিল, যাদের মধ্যে ইতালির সেনাও ছিল। নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় প্রায় ১০০ ইতালীয় সেনাকে ইতোমধ্যে দেশে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইডো ক্রোসেটো বলেন, এই হামলাটি ইচ্ছাকৃত ছিল বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ ঘাঁটিতে ইতালীয় সেনারা কুর্দি পেশমার্গা বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছিল। তিনি জানান, ১৪১ জন ইতালীয় সেনার মধ্যে ১০২ জন ইতোমধ্যে দেশে ফিরেছেন এবং প্রায় ৪০ জনকে জর্ডানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি বলেছেন, ড্রোনটি কোথা থেকে এসেছে তা নিশ্চিত নয়, তবে ইরাকে অবস্থানরত ইরানপন্থী মিলিশিয়াদের সম্পৃক্ততার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি হামলার পর ইতালীয় সেনাদের প্রতি সংহতি জানিয়ে বলেন, তারা নিরাপদে আছেন। ঘাঁটির কমান্ডার কর্নেল স্টেফানো পিজোত্তি জানান, সম্ভাব্য বিমান হামলার সতর্কতা পাওয়ার পর সেনারা আগেই বাংকারে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
এদিকে কুর্দিস্তান অঞ্চলের প্রেসিডেন্সি ইরাকি সরকারকে বিদেশি কূটনৈতিক ও জোট বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইতালি জানিয়েছে, তারা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর কোনো ইচ্ছা রাখে না। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদারে ইতালি ইতোমধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে এবং একটি যুদ্ধজাহাজ সাইপ্রাসে পাঠিয়েছে।
/ইউএমএইচ