আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো নৌ-পথের যাত্রীদের জন্য ঢাকা-বরিশাল রুটের বিলাস বহুল লঞ্চগুলোর অগ্রিম কেবিন বুকিং শুরু হয়েছে।
যাত্রার ৮-১০ দিন আগেই বুকিং প্রক্রিয়া চালু হওয়ায় কোনো প্রকার ভোগান্তি ছাড়াই টিকিট সংগ্রহ করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করছেন সাধারণ যাত্রীরা।
পদ্মা সেতু চালুর পর এই রুটে নৌ-পথের চিরচেনা জৌলুশ ও যাত্রীচাপ কিছুটা কমলেও ঈদ বা যেকোনো উৎসবকে কেন্দ্র করে চিত্রটি বদলে যায়। উৎসবের এই সময়ে লঞ্চের কেবিনের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় কর্তৃপক্ষ অগ্রিম টিকিট বিক্রির এই উদ্যোগ নিয়েছে।
লঞ্চ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঢাকা থেকে বরিশালগামী লঞ্চগুলোর প্রায় শতভাগ টিকিট ইতিমধ্যে বুকিং হয়ে গেছে। অগ্রিম বুকিং শুরু হওয়ার মাত্র দুই দিনের মধ্যেই এই বিপুল সাড়া পাওয়া গেছে।
এছাড়া ঈদের ছুটি শেষে বরিশাল থেকে ঢাকাগামী ফিরতি যাত্রার কেবিনগুলোর প্রায় ৭০ শতাংশ ইতিমধ্যে বুকিং হয়ে গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এম ভি আওলাদ ১০ লঞ্চের ম্যানেজার অভিজিৎ জানান, ১৬ তারিখ ও ১৮ তারিখের টিকিট বিক্রি সম্পূর্ণ শেষ হয়েছে এবং ১৯ তারিখের জন্য কিছু কেবিন এখনো খালি আছে।
সড়ক পথের চেয়ে নৌ-পথ আরামদায়ক ও নিরাপদ হওয়ায় অনেকেই পরিবার নিয়ে নিরিবিলি ভ্রমণের জন্য লঞ্চের কাউন্টারগুলোতে ভিড় করছেন।
যাত্রী ও তাদের স্বজনদের মতে, আগেভাগেই টিকিট পাওয়া নিশ্চিত হওয়ায় এবারের ঈদ যাত্রা অনেকটা নির্বিঘ্ন হবে।
সুন্দরবন নেভিগেশন কোম্পানির ম্যানেজার জাকির হোসেন জানান, আসা-যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত লঞ্চের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং ভিড় বাড়লে লঞ্চের সংখ্যা আরও বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে নৌ-পথে ঈদ যাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বিআইডব্লিউটিএ।
সংস্থাটির বরিশাল কার্যালয়ের কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান, ঢাকা-বরিশাল রুটে মোট ১৬টি বিলাস বহুল লঞ্চ এবং অভ্যন্তরীণ রুটে প্রায় ৩০টি লঞ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় বাড়তি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
যাত্রীচাপ অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেলে নিয়মিত সার্ভিসের বাইরে বিশেষ ট্রিপ বা স্পেশাল সার্ভিস চালুর ব্যবস্থাও রেখেছে কর্তৃপক্ষ।
সময়ের আলো/আরবিএন