পবিত্র রমজানকে বলা হয় জাহান্নামের আগুন থেকে আত্মরক্ষার ঢাল। রমজান শব্দটি আরবি ‘রামাদুন’ থেকে এসেছে। এর আভিধানিক অর্থ দহন, প্রজ্বালন, জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে-ভস্ম করে ফেলা। রমজান মানুষের যাবতীয় কুপ্রবৃত্তি, নফসের দাসত্ব, জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দেয়। প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমান নারী-পুরুষের ওপর রোজা ফরজ। আল্লাহ তায়ালা বলেন, সাওম আমার জন্য, আর আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব (বুখারি)। নবীজি (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ও সওয়াবের আশায় রমজান মাসে রোজা রাখে, আল্লাহ তায়ালা তার আগের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেন। (বুখারি)
মানুষ গুনাহের ভেতর জীবনযাপন করে। ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় মানুষ অনেক ধরনের পাপে জড়িয়ে যায়। তখন জীবন থেকে হারিয়ে যায় যাবতীয় সুকুমারবৃত্তি। মানুষকে পাপের ডোবা থেকে উঠিয়ে পবিত্র করে তোলে রোজা। রোজা মানুষের গুনাহ ধুয়ে-মুছে দেয়। গুনাহ ক্ষমা হয়ে যায়। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানসহ সওয়াবের আশায় রমজানে সিয়াম পালন করবে, তার অতীতের সব গুনাহ মাফ হয়ে যাবে।’ (বুখারি : হাদিস ১৯০১)
জাহান্নাম শাস্তির প্রধান স্থান। জাহান্নাম অপরাধীর আবাসস্থল। সুস্থ বিবেকবান মানুষ দৃঢ়ভাবে প্রার্থনা করে, জাহান্নাম থেকে মুক্তির, জাহান্নামের নিকৃষ্ট আজাব থেকে পরিত্রাণের। রোজা মানুষকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দেয়। জাহান্নামের সম্মুখে ঢাল হয়ে প্রতিরোধ গড়ে। ব্যক্তিকে জাহান্নামের ভয়াবহ আজাব থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যুদ্ধের মাঠে ঢাল যেমন তোমাদের রক্ষাকারী, তেমনি সিয়ামও জাহান্নামের আজাব থেকে পরিত্রাণ লাভের ঢাল’ (ইবনে মাজাহ : ১৬৩৯)। অন্য একটি হাদিসে রয়েছে, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে একটি রোজা রাখে, তার এই একটি দিনের বদৌলতে আল্লাহ তাকে (জাহান্নামের) আগুন থেকে সত্তর বছরের দূরত্বে সরিয়ে রাখবেন।’
এ মাসে মুমিনের নেক কাজের প্রতিযোগিতা দেখে মহান আল্লাহ ফেরেশতাদের কাছে গৌরব প্রকাশ করেন। রমজান মাসে পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি কুরআন তিলাওয়াত এবং দরুদ পাঠ ও নফল নামাজসহ ইবাদত-বন্দেগি হয়। রমজানের এক মাসের রোজা ১০ মাসের সমতুল্য। রমজানে পানাহারের সঙ্গে চোখ-মুখ, হাত-পা-কানসহ শরীরের সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে পাপকাজ থেকে বিরত রেখে ভালো কাজে মগ্ন থাকার বড় এক সুযোগ থাকে। লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ, ক্রোধ-ক্ষোভ, অত্যাচার থেকে বিরত এবং স্রষ্টার সৃষ্টির প্রতি দয়া প্রদর্শন করতে রমজানই শিক্ষা দেয়।
রমজানের প্রথম ১০ দিন রহমত, পরের ১০ দিন মাগফিরাত এবং শেষ ১০ দিন নাজাত। শেষের ১০ দিন ইতিকাফ করতে হয়। রমজান মাসে লাইলাতুল কদরের রাত হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। ইতিকাফের ফজিলত সম্পর্কে নবীজি (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি রমজানের শেষ ১০ দিন ইতিকাফ করবে, সে ব্যক্তি দুটি হজ ও দুটি ওমরাহ হজের সমপরিমাণ সওয়াব পাবে। রমজান মাসে এক রাকাত নফল নামাজ আদায় করলে সত্তর রাকাতের নেকি পাওয়া যায়। রমজানের শেষ দশকে সুবে কদরের রাতে মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র আল কুরআন নাজিল করেন।
সময়ের আলো/এনএ