মুকুলে মুকুলে ছেয়ে গেছে সাতক্ষীরার আম বাগান। অনুকূল আবহাওয়ায় এবার রেকর্ড পরিমাণ ফলনের আশা করছেন চাষি ও কৃষি বিভাগ।
জানা গেছে, জেলায় এ বছর ৪ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে আম চাষ হয়েছে। যা থেকে প্রায় ৭১ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। জেলা থেকে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ১০০ মেট্রিক টন আম ইউরোপসহ বিদেশে রফতানির প্রস্তুতি নিচ্ছেন চাষীরা।
সাতক্ষীরা সদর, কলারোয়া, তালা ও কালিগঞ্জ উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, ছোট-বড় সব বাগানেই এখন মুকুলের সমারোহ। কোথাও গাছে সোনালি রঙের মুকুল উঁকি দিচ্ছে, আবার কোথাও মুকুল থেকে গুটি বের হতে শুরু করেছে।
চাষিরা বলছেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার মুকুলের পরিমাণ অনেক বেশি। বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা শিলাবৃষ্টি না হলে, এবার অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে আমের উৎপাদন।
সাতক্ষীরা সদরের আম চাষি মীর তারেক বলেন, এ বছর মাঘের শেষ থেকেই আম গাছে মুকুল আসা শুরু হয়েছে। কুয়াশা কম থাকায় মুকুলগুলো বেশ সতেজ। আমরা নিয়মিত বাগানে বিষমুক্ত ওষুধ ও ছত্রাকনাশক স্প্রে করছি। আশাকরি, ফলন ভাল হলে অনেক লাভবান হতে পারবো।
কলারোয়া উপজেলার বাগান মালিক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমার ১০ বিঘা জমিতে হিমসাগর ও ল্যাংড়া জাতের আমের বাগান আছে। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী, গাছের গোড়ায় পানি ও জৈব সার দিচ্ছি। রাত-দিন বাগান পাহারা দিচ্ছি, যেন মুকুলের কোনো ক্ষতি না হয়।
তালা উপজেলার ক্ষুদ্র আম চাষি জাকির হোসেন বলেন, গত বছর আমের বাজার-দর ভালো ছিল না। কিন্তু এবার মুকুল দেখে মনে হচ্ছে, ফলন অনেক বেশি হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ মৌসুমে সাতক্ষীরায় মোট ৪ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে হিমসাগর, আম্রপালি ও ল্যাংড়া। জেলায় বর্তমানে নিবন্ধিত আম বাগানের সংখ্যা ৫ হাজার ২৯৯টি। জেলায় সরাসরি আম চাষের সঙ্গে যুক্ত আছেন ৫০ হাজারের বেশি মানুষ।
ইউরোপের বাজারে যাচ্ছে সাতক্ষীরার আম
কৃষি বিভাগ আরও জানায়, সাতক্ষীরার আম স্বাদে ও গন্ধে অতুলনীয় হওয়ায় প্রতি বছর এর চাহিদা বাড়ছে ইউরোপের বাজারে। এ বছর কমপক্ষে ১০০ মেট্রিক টন আম বিদেশে রফতানির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, সাতক্ষীরার মাটি ও আবহাওয়া আম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। আমরা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি। বিশেষ করে মুকুল আসার পর এই সময়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ। পোকার আক্রমণ থেকে মুকুল বাঁচাতে এবং গুটি টিকিয়ে রাখতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পরিচর্যার কথা বলা হচ্ছে। সব ঠিক থাকলে এবার ৭০ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।
তিনি আরও বলেন, নিরাপদ ও বিষমুক্ত আম উৎপাদনের লক্ষ্যে কৃষকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যাতে রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদনে কোনো ঘাটতি না থাকে।
সময়ের আলো/জোই/এফআর