মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলাধীন মেঘনা নদীতে নতুন একটি দস্যু বাহিনীর অপতৎপরতায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নৌযান চালক ও সাধারণ যাত্রীরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, অস্ত্রের মুখে নৌযান জিম্মি করে ডাকাতি, চাঁদাবাজি এবং মাদক চোরাচালানের মতো গুরুতর অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়েছে এই চক্রটি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত কয়েক মাস ধরে মেঘনা নদীর গজারিয়া অংশে নৌ-ডাকাতদের দৌরাত্ম্য আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। কেবল চলতি মার্চ মাসেই দিনের আলোতে দুটি বড় ধরনের ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায় একটি স্পিডবোটে করে তিন যুবক মাঝ নদীতে চলাচলকারী নৌযান থামিয়ে প্রকাশ্যে চাঁদা আদায় করছে। অন্য একটি ভিডিওতে এই বাহিনীর সদস্যদের গাঁজা পাচারের দৃশ্যও ধরা পড়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দী ইউনিয়নের ভাটি বলাকী গ্রামের ইসহাক বেপারীর ছেলেরা এই দস্যু বাহিনীর নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাদের সাথে যোগ দিয়েছে স্থানীয় আরও কয়েকজন বখাটে যুবক।
ভুক্তভোগী নরসিংদী রায়পুরা উপজেলার বাল্কহেড চালক শরীফ হোসেন জানান, গত ২ মার্চ সকালে ইট আনার উদ্দেশ্যে জাজিরা যাওয়ার পথে নদীর ভাটি বলাকী এলাকায় ৬-৭ জনের একটি ডাকাত দল তাদের গতিরোধ করে। দেশীয় অস্ত্রের মুখে মারধর করে তার কাছ থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা লুটে নেয়।
শরীফ হোসেন আরও বলেন, খোঁজ নিয়ে আমি নিশ্চিত হয়েছি যে ডাকাত দলের সদস্যরা হলো ভাটি বলাকী গ্রামের ইসহাক বেপারীর ছেলে আলম, জামান ও বাচ্চু বেপারীর ছেলে আমির হোসেন। এদের সাথে ইসহাকের আরেক ছেলে মাসুমও জড়িত। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর থেকে তারা আমাকে প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে।
আরেক ভুক্তভোগী কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার রামপুর বাজারের ব্যবসায়ী আবুল কাশেম জানান, আড়াই মাস আগে মালামাল আনতে নারায়ণগঞ্জ যাওয়ার পথে একই স্থানে তিনি ডাকাতির শিকার হন। সকাল সাড়ে ১০টায় প্রকাশ্যে অস্ত্র ঠেকিয়ে তার কাছ থেকে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। তিনিও ডাকাত সদস্যদের শনাক্ত করে গ্রামবাসীর কাছে বিচার চেয়েছেন।
বিষয়টি সম্পর্কে ভাটি বলাকী গ্রামের বাসিন্দা জিহান খান লিখন বলেন, ভুক্তভোগীদের অভিযোগ সঠিক। আমাদের গ্রামের ইসহাক বেপারীর চার ছেলেসহ আরও কয়েকজন এই অপকর্মে জড়িত। মাসুম, জামান, নূরে আলম ও আমিরসহ কয়েকজন গত কয়েক মাস ধরে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত ও অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আবেদনও জানান তিনি।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্তদের একজন মাসুম সকল দাবি অস্বীকার করে বলেন, আমরা স্থানীয় রাজনীতির প্রতিহিংসার শিকার। গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে আমি নদীতে নামিনি। আমার ভাইয়েরাও এর সাথে জড়িত নয় বলে আমার বিশ্বাস। আপনাদের কাছে অনুরোধ আপনার কোন কিছু লেখার আগে অবশ্যই তার সত্যতা যাচাই করে নিবেন।
এ বিষয়ে জানতে গজারিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শরজিৎ কুমার ঘোষের মোবাইলে অসংখ্যবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
বিষয়টি সম্পর্কে নৌ পুলিশ নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলের পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন বলেন, এ ব্যাপারে আমি খোঁজখবর নিচ্ছি। বিষয়টি যদি সত্যি হয় অবশ্যই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
কেউ যদি অভিযুক্তদের নাম পরিচয় জেনে থাকেন তবে তথ্য দিয়ে সহায়তা করবার অনুরোধও করেন তিনি।
সময়ের আলো/আরবিএন