ঈদ শুধু উৎসবের নাম নয়; এটি সংযম, আত্মশুদ্ধি এবং ভ্রাতৃত্বের এক মহিমান্বিত মেলবন্ধন। ঈদুল ফিতরের এই অনাবিল আনন্দকে আরও বর্ণিল করতে সময়ের আলো প্রকাশ করেছে সমৃদ্ধ এক ঈদ সংখ্যা।
নবীন-প্রবীণ দেশবরেণ্য লেখক, কবি ও গবেষকদের মননশীল লেখায় সাজানো সংখ্যাটি সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও সমকালীন জীবনবোধের এক অনন্য সংকলন।
সোমবার দৈনিক সময়ের আলোর ঈদ সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন করেন আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সময়ের আলোর প্রধান সম্পাদক মো. রমজানুল হক নিহাদ। রাজধানীর ধানমন্ডিতে গ্রুপের প্রধান কার্যালয়ে অনাড়ম্বর আয়োজনের মধ্য দিয়ে সংখ্যাটি পাঠকের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
অনুষ্ঠানে আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সময়ের আলোর প্রধান সম্পাদক রমজানুল হক নিহাদ বলেন, ঈদ কেবল উৎসবের আনন্দে সীমাবদ্ধ নয়; এটি মানবিকতা, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সৌহার্দের এক অনন্য বার্তা বহন করে। সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করার মধ্যেই ঈদের প্রকৃত তাৎপর্য নিহিত। তিনি বলেন, ঈদের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তুলবে সময়ের আলোর ঈদ সংখ্যা।
আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশন লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক (অপারেশন) মোহাম্মদ তানভীরুল ইসলাম বলেন, ঈদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো সাধ্যের মধ্যে নতুন পোশাক পরা, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করা এবং আনন্দ ভাগাভাগি করা। এই মিলনমেলায় সামাজিক বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।
তিনি বলেন, সময়ের আলোর এই বিশেষ ঈদ সংখ্যা পাঠক মহলে ইতিবাচক সাড়া ফেলবে এবং উৎসবের আনন্দকে আরও বর্ণিল করে তুলবে।
দৈনিক সময়ের আলোর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ শাহনেওয়াজ বলেন, বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার অঙ্গীকার নিয়ে দৈনিক সময়ের আলো সবসময় পাঠকের পাশে থাকার চেষ্টা করেছে। তাদের ভালোবাসা, আস্থা ও সমর্থনই আমাদের পথচলার প্রধান শক্তি। সময়ের আলোর ঈদ সংখ্যা পাঠকের সৃজনশীলতাকে আরও শাণিত করবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।
সময়ের আলোর নিউজ এডিটর ও ঈদ সংখ্যা সম্পাদক হাসসান আতিক বলেন, সময়ের আলোর সংখ্যাটি বৈচিত্র্যের দিক থেকে বাজারের সেরা একটি সংখ্যা হয়েছে। ভিন্ন ধারার এই আয়োজনে উপন্যাস, প্রবন্ধ, নিবন্ধ, গল্প, কবিতার পাশাপাশি প্রকাশ হয়েছে তিনটি বৃহৎ পরিসরের অনুবাদ পাণ্ডুলিপি। প্রতিটি রচনাই অনবদ্য।
এর মধ্যে পিটার কাস্টার্সের ‘কাজী নজরুল ইসলাম : সহনশীলতার অগ্রদূত’ রচনাটি আমাদের জাতীয় কবির ‘বিদ্রোহী’ পরিচয়ের আড়ালে পড়ে থাকা গুরুত্বপূর্ণ দিকটিকে তুলে ধরেছে। জাতি গঠনে যেই চেতনা অতীব জরুরি। এ ছাড়া প্রখ্যাত আরব ইতিহাসবিদ গাসসান কানাফানির গ্রন্থ ‘ফিলিস্তিন বিদ্রোহ : ১৯৩৬-১৯৩৯’ মূল আরবি থেকে করা এর অনুবাদ ছাপা হয়েছে। যা এই সংখ্যাটিকে অতি বিশেষ করে তুলেছে।
আরেকটি পাণ্ডুলিপি বিশ্বখ্যাত লেখক অস্কার ওয়াইল্ডের ‘আর্টিস্ট হিসাবে ক্রিটিক’। এর অনুবাদ প্রকাশের মাধ্যমে বাংলা ভাষার নতুন গদ্য-রীতিকে জায়গা করে দেওয়ার সাহস দেখিয়েছে সময়ের আলো। তিনি বলেন, অন্য রচনাগুলোতেও গতানুগতিক উপস্থাপনের তুলনায় ভিন্নতা আনার চেষ্টা করা হয়েছে। সময়ের আলোর এই অভিযাত্রা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে প্রত্যাশা করেন তিনি। প্রকাশনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সময়ের আলোর প্রকাশক ফয়সাল আর ফেরদৌস, চিফ বিজনেস অফিসার এহসানুল হাবীব সাদী, চিফ অপারেটিং অফিসার মুনিফ আম্মার, হেড অব ফাইন্যান্স মোস্তাফিজুর রহমান এবং হেড অব আইটি অ্যান্ড এমআইএস শামীম রহমানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। আরও উপস্থিত ছিলেন সিটি এডিটর এসএম আলমগীর, চিফ রিপোর্টার এম মামুন হোসেন, ডেপুটি চিফ রিপোর্টার রফিক রাফি প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ঈদ সংখ্যার সৌজন্য মূল্য ২০০ টাকা। ইতিমধ্যে কিনতে পারছেন পাঠকরা। সময়ের আলোর অনলাইনেও (www.shomoyeralo.com) পড়তে পারছেন।
সময়ের আলো/এআর