ইউরোপের মঞ্চে আবারও নিজেদের শক্তির জানান দিল আর্সেনাল। চাপে থেকেও নয়, বরং নিয়ন্ত্রণ আর পরিকল্পিত আক্রমণের ফুটবলে শেষ ষোলোর বাধা পেরিয়ে তারা লেভারকুসেনকে ২-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেল আর্সেনাল।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) এমিরেটস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফিরতি লেগে শুরু থেকেই ম্যাচের গতি নিজেদের হাতে রাখে মিকেল আর্তেতার দল। যদিও বল দখলের পরিসংখ্যানে এগিয়ে ছিল বায়ার লেভারকুসেন, কিন্তু আক্রমণের ধার ও কার্যকারিতায় ছিল স্পষ্ট পার্থক্য। আর্সেনালের ধারাবাহিক চাপের মুখে পড়ে বারবার রক্ষণ সামলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে জার্মান দলটি।
প্রথমার্ধের মাঝামাঝি এসে আর্সেনালের প্রচেষ্টার ফল মেলে। লিয়েন্দ্রো ট্রোসার্ডের নিখুঁত পাস থেকে এবেরেশি এজে দারুণ এক গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। এই গোলটি শুধু ম্যাচের মোড়ই ঘুরিয়ে দেয়নি, বরং আর্সেনালের আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়ে দেয় কয়েকগুণ।
বিরতির পরও একই ছন্দ বজায় রাখে স্বাগতিকরা। মাঝমাঠ থেকে খেলার নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে তারা প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে। এরই ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয়ার্ধে ডেকলান রাইস অসাধারণ একক নৈপুণ্যে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। দূরপাল্লার শটে তার গোলটি ছিল ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণ।
আরও পড়ুন
লেভারকুসেন শেষদিকে কিছু আক্রমণ সাজালেও আর্সেনালের সংগঠিত রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। ফলে দুই লেগ মিলিয়ে ৩-১ ব্যবধানে জয় নিয়ে নিশ্চিত হয় গানারদের শেষ আটে জায়গা।
এই জয়ের মাধ্যমে আর্সেনাল শুধু কোয়ার্টার ফাইনালেই ওঠেনি, বরং ইউরোপের শিরোপা দৌড়ে নিজেদের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেও প্রতিষ্ঠা করেছে। সামনে তাদের প্রতিপক্ষ স্পোর্টিং সিপি- যারা নিজেদের ম্যাচেও দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে জায়গা করে নিয়েছে শেষ আটে।
এখন দেখার বিষয়, ধারাবাহিক এই পারফরম্যান্স ধরে রেখে আর্সেনাল কতদূর যেতে পারে ইউরোপের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ক্লাব প্রতিযোগিতায়।
এএডি/