বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজের বিতর্কিত সেই রানআউট এখন আর শুধু মাঠের ঘটনা নয়- এটি রীতিমতো ক্রিকেট আইনের একটি আলোচ্য উদাহরণে পরিণত হয়েছে। আর এই বিতর্কে চূড়ান্ত ব্যাখ্যা দিয়েছে খেলার আইন প্রণয়নকারী সংস্থা মেরিলিবোর্ন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি)।
তাদের মতে, মেহেদী হাসান মিরাজ যে উপায়ে পাকিস্তানের ব্যাটার সালমান আলী আগাকে রানআউট করেছেন, তা পুরোপুরি বৈধ এবং আইনের মধ্যেই পড়ে। অর্থাৎ আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে কোনো ভুল ছিল না।
ঘটনার ব্যাখ্যায় এমসিসি জানায়, বল তখনও ‘লাইভ’ অবস্থায় ছিল এবং নন-স্ট্রাইকার প্রান্তে থাকা ব্যাটার ক্রিজের বাইরে ছিলেন- এই দুই শর্ত পূরণ হওয়ায় রানআউট দেওয়াই ছিল সঠিক সিদ্ধান্ত। খেলোয়াড়দের মধ্যে ধাক্কা লাগলেও সেটি বলকে ‘ডেড’ করে না, যদি না গুরুতর আঘাত বা খেলা থামানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়।
তবে এখানেই শেষ নয়- আইনের পাশাপাশি ‘স্পিরিট অব ক্রিকেট’ বা খেলাধুলার নৈতিক দিকটিও সামনে এনেছে এমসিসি। তাদের মতে, চাইলে ফিল্ডিং দল আপিল তুলে নিতে পারত, কারণ ওই মুহূর্তে ব্যাটার হয়তো ভেবেছিলেন বলটি আর খেলায় নেই।
আরও পড়ুন
ঘটনাটি ঘটে যখন শট ঠেকাতে গিয়ে মিরাজ ও আগার মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সেই মুহূর্তে আগা বলটি তুলে দিতে চেয়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু এর মধ্যেই মিরাজ দ্রুত বল সংগ্রহ করে স্টাম্প ভেঙে দেন, আর তখনই ক্রিজের বাইরে ছিলেন আগা।
এমসিসি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে- যদি আগা বলটি তুলতে গিয়ে ফিল্ডিংয়ে বাধা সৃষ্টি করতেন, তাহলে ‘অবস্ট্রাক্টিং দ্য ফিল্ড’ আউটের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারত। তাই এমন পরিস্থিতিতে ব্যাটারের প্রথম দায়িত্ব হওয়া উচিত ক্রিজে ফিরে যাওয়া।
নতুন আইনের প্রসঙ্গ টেনেও সংস্থাটি জানায়, আসন্ন পরিবর্তনগুলো এই ধরনের ঘটনায় সিদ্ধান্ত পাল্টাবে না। কারণ, বল থেমে না গেলে বা খেলা বন্ধ না হলে সেটিকে ‘ডেড বল’ ধরা যায় না।
সব মিলিয়ে এমসিসির বক্তব্য পরিষ্কার- আইনের চোখে এটি নিখুঁত রানআউট। তবে নৈতিকতার প্রশ্নে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ সবসময়ই থাকে, আর সেটি নির্ভর করে মাঠের খেলোয়াড়দের বিবেচনার ওপর।
এএডি/