ঝালকাঠিবাসীর ইফতারে এখন প্রথম পছন্দ প্রকৃতির সান্নিধ্য। সুগন্ধা, বিষখালী, গাবখান, বাসন্ডা ও ধানসিঁড়ি—এই পাঁচ নদীর মোহনায় প্রস্তাবিত ইকোপার্কে এখন বইছে উৎসবের আমেজ। প্রতিদিন বিকেলে খোলা আকাশের নিচে সূর্যাস্তের রক্তিম আভা উপভোগ করতে করতে কয়েকশ মানুষ মেতে উঠছেন ইফতারের আয়োজনে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিকেলের সূর্য যখন পশ্চিম দিগন্তে হেলতে থাকে, তখন থেকেই নদীর পাড়ে ভিড় বাড়তে থাকে। পরিবারের সদস্য, বন্ধু-বান্ধব কিংবা সহকর্মীদের নিয়ে দল বেঁধে আসছেন অনেকে। কেউ চাদর বিছিয়ে, কেউ মাদুর বা খবরের কাগজ পেতে গোল হয়ে বসছেন। সামনে সাজানো বাহারি ইফতার—তরমুজ, খেজুর, জিলাপি আর বাড়ির তৈরি বিশেষ পদ। নদীর ঢেউয়ের মৃদু গর্জন আর শীতল বাতাসের মাঝে আজানের ধ্বনি শোনার মুহূর্তটি যেন এক অপার্থিব শান্তি বয়ে আনে।
ঝালকাঠি শহরের কোলাহল ছেড়ে একটু প্রশান্তির খোঁজে মানুষ বেছে নিচ্ছেন এই প্রস্তাবিত ইকোপার্ক ও সিটি রিভার ভিউ এলাকাকে।
স্থানীয়দের মতে, আগে এখানে শুধু বিকেলবেলা হাঁটাচলা হতো, কিন্তু এখন এটি ইফতারের প্রধান মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। শতাধিক ইফতার পার্টি নিয়মিত অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই খোলা প্রান্তরে।
একটি দলে বেশ কয়েকজনকে একসঙ্গে বসে ইফতারের প্রস্তুতি নিতে দেখা গেল। দলের একজন সরকারি কলেজ লাইব্রেরিতে কর্মরত আতাউর রহমান তামীম। তিনি বলেন, নিজ এলাকায় তো প্রতিদিনই ইফতার করা হয়। কিন্তু মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে খোলা পরিবেশে, প্রকৃতির মাঝে বসে ইফতার করতে। তাই সহকর্মীদের নিয়ে আজ এ মাঠে চলে এসেছি। এখানে বসে গল্প করতে করতে ইফতার করার আলাদা একটা আনন্দ আছে।
আরেকটি দলে থাকা তরুণ নিশাত জানান, গত রোজার সময় বন্ধুদের সঙ্গে একবার এ মাঠে ইফতার করেছিলাম। সেই অভিজ্ঞতা এত ভালো লেগেছিল যে, এবারও বন্ধুদের নিয়ে চলে এলাম। নদীর ঢেউ আর সূর্যাস্ত দেখতে দেখতে ইফতার করতে অন্যরকম শান্তি লাগে।
শুধু তরুণরাই নন, অনেক পরিবারও এই ইকোপার্কে এসে ইফতার করছেন। বিকেলের দিকে শিশুদের নিয়ে অনেক পরিবার এখানে ঘুরতে আসেন। সূর্যাস্তের আগে মাঠে বসেই তারা ইফতার সারছেন।
একজন অভিভাবক জানান, সারাদিন ঘরের ভেতর থাকার পর বিকেলে পরিবারকে নিয়ে একটু খোলা পরিবেশে সময় কাটানোর জন্য এ মাঠে আসা হয়। এতে শিশুরাও আনন্দ পায়, আবার প্রকৃতির মাঝেও কিছুটা সময় কাটানো যায়।
আগতদের দাবি, প্রকৃতির মাঝে বসে ইফতার করার মধ্যে এক ধরনের মানসিক প্রশান্তি রয়েছে। খোলা আকাশ, নদীর ঢেউয়ের শব্দ, শীতল বাতাস- সব মিলিয়ে পরিবেশটি হয়ে ওঠে অন্যরকম।
সব মিলিয়ে রমজান মাসে খোলা আকাশের নীচে মাঠে বসে ইফতার করার এই প্রবণতা দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
তবে মাঠে ইফতার আয়োজন বাড়লেও পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অনেক সময় ইফতার শেষে প্লাস্টিকের বোতল, প্যাকেট বা খাবারের উচ্ছিষ্ট অংশ মাঠে ফেলে রেখে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাদের।
স্থানীয়দের দাবি, এমন সুন্দর পরিবেশ উপভোগ করতে হলে সবার আগে এ স্থানটিকে পরিষ্কার রাখা জরুরি।
এফআর