ভারতের মহারাষ্ট্র রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ‘ধর্মীয় স্বাধীনতা বিল ২০২৬’। শাসক দলের সমর্থনে বিলটি পাস হলেও, বিরোধীদের তীব্র আপত্তি এটিকে ইতোমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে- বিশেষ করে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিধানসভায় কণ্ঠভোটে পাস হওয়া এই আইনে জোরপূর্বক, প্রতারণা বা প্রলোভনের মাধ্যমে ধর্মান্তরকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্মান্তরের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড ও আর্থিক জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে নাবালক, নারী, মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তি কিংবা তফশিলি জাতি-উপজাতির সদস্যদের ধর্মান্তরের ক্ষেত্রে শাস্তি আরও কঠোর করা হয়েছে।
আইনটির পক্ষে অবস্থান নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস দাবি করেছেন, এটি কোনো ধর্মকে লক্ষ্য করে নয়; বরং জোরপূর্বক ও প্রতারণামূলক ধর্মান্তর ঠেকানোর জন্যই এই উদ্যোগ। তিনি সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে বলেন, স্বেচ্ছায় ধর্ম পালনের অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকবে।
তবে আইনের কিছু ধারা নিয়েই সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ধর্ম পরিবর্তনের আগে ৬০ দিন পূর্বে প্রশাসনকে জানানো এবং পরে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা নিশ্চিত করার বিধানকে অনেকেই ব্যক্তিগত গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
আরও পড়ুন
বিরোধী জোটের নেতারা বলছেন, এই আইন বাস্তবে হয়রানির হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ও অন্যান্য দলগুলোর অভিযোগ, আইনটি সংবিধানের মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং সংখ্যালঘুদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
অন্যদিকে, শাসকপক্ষের কিছু মিত্র এই বিলকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, প্রতারণা বা চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে ধর্মান্তরের ঘটনা রোধে এমন আইনি কাঠামো দরকার ছিল অনেক দিন ধরেই।
আইনটিতে আরও বলা হয়েছে, দলগত বা ‘মাস কনভার্সন’-এর ক্ষেত্রেও কঠোর শাস্তির বিধান থাকবে। একই অপরাধ পুনরাবৃত্তি হলে সাজা আরও বাড়তে পারে। এমনকি অবৈধ ধর্মান্তরের ভিত্তিতে হওয়া বিয়ের ক্ষেত্রে সন্তানের ধর্মীয় পরিচয় নিয়েও নির্দিষ্ট বিধান রাখা হয়েছে।
সমালোচকদের মতে, এসব বিধান শুধু আইনি জটিলতা বাড়াবে না, বরং সমাজে বিভাজন ও অবিশ্বাসও বাড়াতে পারে। তারা এই বিলটি যৌথ কমিটিতে পাঠিয়ে আরও পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছিলেন, যদিও তা গৃহীত হয়নি।
সব মিলিয়ে, ‘ধর্মীয় স্বাধীনতা বিল ২০২৬’ এখন শুধু একটি আইন নয়- বরং ভারতের ধর্মীয় স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত অধিকার এবং রাজনীতির সংবেদনশীল ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
এএডি/