রূপসা জমিদার বাড়ি ‘মসজিদে নূর’ দুই শতাব্দীর আলোর সাক্ষী

শরীফুল ইসলাম, চাঁদপুর

সারাদেশ

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা বাজারে দাঁড়িয়ে আছে এক নীরব ইতিহাস রূপসা জমিদার বাড়ি জামে মসজিদ। কিন্তু এর প্রকৃত নাম ‘মসজিদে

2026-03-19T05:49:43+00:00
2026-03-19T05:49:43+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
রূপসা জমিদার বাড়ি ‘মসজিদে নূর’ দুই শতাব্দীর আলোর সাক্ষী
শরীফুল ইসলাম, চাঁদপুর
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪৯ এএম 
সংগৃহীত ছবি
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা বাজারে দাঁড়িয়ে আছে এক নীরব ইতিহাস রূপসা জমিদার বাড়ি জামে মসজিদ। কিন্তু এর প্রকৃত নাম ‘মসজিদে নূর’। নামের অর্থ আলো, আর সেই আলোই যেন দুই শতাব্দী ধরে আলোকিত করে রেখেছে পুরো জনপদকে।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১২৮৪ বঙ্গাব্দে বৃহত্তর মেঘনা পাড়ের প্রভাবশালী জমিদার মোহাম্মদ গাজী চৌধুরী আল্লাহর সন্তুষ্টি ও এলাকার মানুষের ইবাদতের সুবিধার্থে নির্মাণ করেন এই দৃষ্টিনন্দন মসজিদটি। তৎকালীন ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে গড়ে ওঠা এ স্থাপনাটি শুধু একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নয় বরং ইসলামি স্থাপত্যকলার এক অনন্য নিদর্শন। মসজিদের প্রবেশ পথের পাশে শ্বেতপাথরে ফার্সি ভাষায় খোদাই করা রয়েছে নির্মাণকাল ও নির্মাতার নাম। এ যেন ইতিহাসের এক স্থায়ী দলিল।

৪৭ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৪০ ফুট প্রস্থের মূল মসজিদটির সামনে রয়েছে ৫৩/৩০ ফুটের দেয়ালবেষ্টিত প্রশস্ত চত্বর। ছাদের সামনের অংশে তিনটি বড় গম্বুজ আর পুরো স্থাপনায় ছোট-বড় মিলিয়ে রয়েছে মোট ৩৯টি গম্বুজ। মার্বেল পাথরের কারুকাজ, শৈল্পিক নকশা ও সুষম গঠনশৈলী একে করেছে অনিন্দ্য সুন্দর। 

প্রতিটি খিলান, প্রতিটি অলংকরণ যেন নির্মাতার ঈমানি অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ।মসজিদের পশ্চিম পাশে রয়েছে শানবাঁধানো ঘাটসহ একটি দীঘি। সেই দীঘির জলে আজও মুসল্লিরা ওজু করেন। পানি ছিটানোর শব্দ, পাখির ডাক আর আজানের ধ্বনি মিলেমিশে সৃষ্টি করে এক অপার্থিব পরিবেশ যা মনে করিয়ে দেয় ইবাদত শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি আত্মার প্রশান্তি।

সময়ের চাহিদায় মূল কাঠামো অক্ষুণ্ন রেখে তিন দফা আয়তন বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় পাঁচশ মুসল্লি একসাথে নামাজ আদায় করতে পারেন এই মসজিদে। রমজান মাসে এই সংখ্যা আরও বেড়ে যায়; তারাবির সময় পুরো প্রাঙ্গণ ভরে ওঠে মুসল্লিদের সরব উপস্থিতিতে।

দীর্ঘদিন ধরে মসজিদের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মাওলানা মো. আবদুর রহমান। তিনি বলেন, এই মসজিদ শুধু নামাজের স্থান নয়, এটি আমাদের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের কেন্দ্রবিন্দু। এখানে দাঁড়ালে মনে হয় আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের দোয়ার সঙ্গেই যুক্ত হয়ে যাই।

স্থানীয় মুসল্লি শামিম হোসেন বলেন, রূপসা বাজারের পরিচয়ই যেন এই মসজিদ। বাইরে থেকে কেউ এলে আমরা আগে তাকে মসজিদটি দেখাই। রূপসা জমিদার বাড়ি জামে মসজিদ কেবল ইট-পাথরের স্থাপনা নয়, এটি বিশ্বাস, ঐতিহ্য ও সময়ের সাক্ষ্য। 

জমিদার পরিবারের উত্তরসূরি ও মোহাম্মদ গাজী চৌধুরী ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মেহেদী হাসান চৌধুরী জানান, আমাদের পূর্বপুরুষ যে নিয়তে এই মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন, আমরা সেই আমানত রক্ষা করতে চাই। ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রেখে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।

সময়ের আলো/আআ


  বিষয়:   রূপসা  জমিদার  বাড়ি  মসজিদ  শতাব্দী  আলো  সাক্ষী 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: