ঈদ মানেই আনন্দ। ঈদ শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়। এক ধরনের সুখানুভূতি। যা মানুষের দূরত্ব কমিয়ে দেয়। মনের আলো জ্বালিয়ে দেয়। ধনী-গরিব সবার মধ্যে আনন্দ আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর এই দিনটি মুসলিম উম্মাহর জন্য মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ উপহার। সামাজিক সংহতি, সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের এক মহামিলন মেলা হিসেবে এই দিনটি বিশ্বজুড়ে পরিচিত।
এর আগে উল্লেখ করা হয়েছে, ঈদ শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়। এ যেন পারিবারিক বন্ধন। সামাজিক সম্প্রীতি ও মানবিক বোধের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ। মূল ভিত্তি হচ্ছে, রমজানের সিয়াম সাধনার সমাপ্তি। যুগে যুগে মানুষ সূর্যাস্তের পর পশ্চিম আকাশে নতুন চাঁদের ক্ষীণ রেখা দেখার জন্য অপেক্ষা করে।
গ্রামে এখনও খেলার মাঠে দলবেঁধে বাড়ির ছাদে উঠে আকাশের দিকে তাকিয়ে চাঁদ দেখে। কেউ চাঁদ দেখতে পেলে আনন্দের সংবাদ চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এটি মুসলিম সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলা যায়। চাঁদ দেখে রোজা রাখা আর চাঁদ দেখে ঈদ পালন করা চিরন্তন সত্য হয়ে গেছে।
ঈদে ধনী-গরিব এক সারিতে দাঁড়িয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঈদগাহ মাঠে নামাজ আদায় করেন, এ দৃশ্য এক চিরন্তন রূপ নিয়েছে। ভ্রাতৃত্ব বন্ধনের অপর এক দৃশ্য হচ্ছে নামাজের পর একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি। কোনো ধরনের ধনী-গরিবের ভেদাভেদ নেই। গরিবরা যেন ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে পারেন তার জন্য ফিতরা ও জাকাতের প্রচলন রয়েছে। এই ভ্রাতৃত্ব বন্ধনের চিরায়ত সংস্কৃতি যুগে যুগে প্রচলন হয়ে আসছে। কিন্তু মুসলিম বিশ্বের কোনো কোনো দেশে যুদ্ধ তা অনেকাংশে মলিন করে দেয়।
বাংলাদেশ শান্তিপ্রিয় দেশ। এই দেশে ঈদ আসে যেমন আনন্দের বার্তা নিয়ে। তেমনি সব ধরনের মনের কালিমা মুছে নতুন করে দেশকে গড়ার প্রত্যয় রয়েছে। ঈদে সব ধরনের ভেদাভেদ ভুলে পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা শ্রদ্ধা জাগ্রত হোক- সবার তা কামনা। ঈদে নাড়ির টানে সবাই তার নিজ গ্রামে ছুটে যান। শত কষ্ট মেনে নিয়ে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন। তবে এই যাত্রাপথ যে সবসময় মসৃণ তা নয়। অনেক সময় ঝক্কি-ঝামেলা পোহাতে হয়। তবে এবার ঈদ যাত্রায় সে ধরনের বড় কোনো প্রতিবন্ধকতা দেখা যায়নি।
ট্রেনে কিংবা বাসে বা লঞ্চে সবার জন্য একটু স্বস্তিদায়ক বার্তা নিয়ে এসেছে। তবে এ ব্যাপারে মাত্র এক মাস বয়সি সরকারের আগাম প্রস্তুতি ও নজরদারির জন্য প্রশংসার দাবি রাখে। তবে ঈদে বেশিরভাগ মানুষ নিজ গ্রামে ছুটে যান তাদের ঢাকার বাসা ফেলে। বলা যায়, ঢাকা শহর এখন অনেকটা ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। কর্মব্যস্ত ঢাকার চেহারা আজ-কালের মধ্যে আরও পাল্টে যাবে। এ সময় অনেক বাসায় চুরি হয়। আবার বড় ধরনের ডাকাতি হয়।
এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সজাগ থাকতে হবে। আইনশঙ্খলা বাহিনী যদি সজাগ ও তৎপর থাকে তা হলে নিরাপদ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। যদিও ইতিমধ্যে তারা জনসাধারণকে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। এই পরামর্শ সম্পর্কে সবাইকে সচেতন হতে হবে। ঈদের প্রাক্কালে সবাইকে ঈদ মুবারক।
সময়ের আলো/আআ