উপার্জনক্ষম দুইজনকে হারিয়ে দিশেহারা সোহেলের পরিবার

বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি

সারাদেশ

পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে ঢাকা থেকে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন সোহেল ফকির। বাড়িতে পথচেয়ে বসেছিলেন মা আর তিন

2026-03-19T19:26:12+00:00
2026-03-19T19:26:12+00:00
 
  বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
সদরঘাটে লঞ্চ দুর্ঘটনা
উপার্জনক্ষম দুইজনকে হারিয়ে দিশেহারা সোহেলের পরিবার
বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬, ৭:২৬ পিএম 
ইনসেটে নিহত সোহেল ফকির। ছবি : সংগৃহীত
পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে ঢাকা থেকে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন সোহেল ফকির। বাড়িতে পথচেয়ে বসেছিলেন মা আর তিন নাবালক বোন। অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে বাবার সঙ্গে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনাও হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু গতকাল বুধবার বিকেলের সদরঘাটে এক ভয়াবহ লঞ্চ দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে সোহেলের প্রাণ, এখনও নিখোঁজ রয়েছে তার বাবা।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে মেহেন্দিগঞ্জের বাড়িতে সোহেলের নিথর দেহ পৌঁছালে পুরো গ্রামে নেমে আসে শোকের ছায়া। শুধু ফকির বাড়িতে নয়, পুরো গ্রামেই ঈদের আনন্দ পরিণত হয় বিষাদে। আর উপার্জনক্ষম দুই সদস্যকে হারিয়ে চরম অনিশ্চিত জীবনের মুখে পড়েছে সোহেলের পরিবার। 

Advertisement
একদিকে বাড়িতে সোহেলের নিথর দেহ, অন্যদিকে বাবা মিরাজ ফকির এখনও বুড়িগঙ্গায় নিখোঁজ, আবার রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সোহেলের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রেশমা আক্তার। সব মিলিয়ে তার মা ও বোনসহ স্বজনদের কান্না- আহাজারিতে ফকির বাড়িতে আসা অনেক গ্রামবাসী চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।  

জানা গেছে, সকাল ১০টায় দিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে সোহেলের মরদেহ গ্রামের আসার বাদ জোহর গ্রামের নুর মোহম্মদ মৃধা বাড়ি জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক গোরস্তানে সোহেলকে চির নিন্দ্রায় শায়িত করা হয়েছে। 

নিহত সোহেলের চাচা ফারুক ফকির জানান, তার ভাই মিরাজ ফকির (সোহেলের বাবা) ১৫ থেকে ২০ বছর আগে ঢাকায় যান। সাভারের হেমায়েতপুরে একটি ট্যানারিতে শ্রমিকের কাজ করতেন। ৫ বছর আগে একমাত্র ছেলে সোহেলকেও নিয়ে যান। বছর দুয়েক আগে সোহেল বিয়ে করে। স্ত্রী ও বাবাকে নিয়ে সাভারে ভাড়া বাসায় থাকতেন তারা। বুধবার বোনাস পেলে ঈদ উদযাপনের জন্য তারা বাড়িতে রওনা হয়েছিলেন। 


ফারুক ফকির জানান, মিরাজ ও ভাতিজা সোহেল ছিল পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাদের অনুপস্থিতিতে মা ও তিন বোনের দেখার কেউ রইলো না। পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, বাবা মিরাজ ফকির, স্ত্রীকে নিয়ে সোহেল মেহেন্দিগঞ্জ যাওয়ার জন্য বুধবার (১৮ মার্চ) বিকাল ৫টার দিকে একটি ট্রলারে রাজধানীর সদরঘাটে পৌঁছান। ট্রলার থেকে তারা ‘আসা-যাওয়া’ নামক লঞ্চে উঠছিলেন। এ সময়ে জাকির সম্রাট-৩ নামের আরেকটি লঞ্চ চাপা দিলে সোহেল নিহত হন। বুড়িগঙ্গায় পড়ে এখনও নিখোঁজ তার বাবা মিরাজ। এ ঘটনায় সোহেলের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী গুরুতর আহত হন।

এফআর
  বিষয়:   বানারীপাড়া  বরিশাল  সদরঘাট  লঞ্চ দুর্ঘটনা  উপার্জনক্ষম  হারিয়ে  দিশেহারা  পরিবার 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: