পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় কার্গো বোঝাই নিষিদ্ধ মাদক ও চোরাই সুপারি আটক করা হয়েছে। গতকাল রাতে স্থানীয় জনতা এসব নিষিদ্ধ পণ্য আটক করে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তা জব্দ করে।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বাউফল থানার ওসি আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, জব্দকৃত সুপারি বৈধ কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে তিনি মাদকের বিষয়ে নিশ্চিত কিছু বলতে পারেননি।
এদিকে, ওসি আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে চোরাকারবারিদের সহায়তার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি তিনি আটককৃত কার্গো বোঝাই নিষিদ্ধ মাদক ও চোরাই সুপারির চালানটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ উঠে।
বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে আজ বিকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) সাজ্জাদুল ইসলাম সজল।
এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র ভারত ও বার্মা থেকে সরকারি বিপুল অঙ্ক ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে চোরাই পথে সুপারির আড়ালে পপি সীড, ইয়াবাসহ ভয়ানক সব মাদক বাংলাদেশে নিয়ে আসে।
বুধবার রাতে এমনই একটি কার্গো আটক করে স্থানীয়রা। এসময় ট্রলার চালক ও জড়িতদের ঘেরাও করে রাখা হয়। তবে পুলিশ আসতে বিলম্ব করার কারণে কৌশলে পালিয়ে যায় তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনাস্থল থেকে মাত্র ৫ মিনিটের দূরত্বে কালাইয়া বন্দরে একটি পুলিশ ফাঁড়ি রয়েছে। আর বাউফল থেকে কালাইয়া বন্দরে থানা পুলিশের আসতে সময় লাগে মাত্র ১৫ মিনিট। তবুও সঠিক সময় পুলিশ আসেনি।
স্থানীয়দের দাবি, আটককৃত পণ্যের সঙ্গে পটুয়াখালীর প্রখ্যাত চোরাকারবারি প্রফুল্ল এবং বরিশালের জয়দেব জড়িত। তারাই এই চোরাচালানের মূলহোতা। দীর্ঘদিন ধরে পার্টস, সুপারি, বিদেশি মদসহ চোরাচালানি ব্যবসা চালাচ্ছে এই চক্র। তাদের বিরুদ্ধে বরিশাল কোতোয়ালি থানা, পাথরঘাটা, ভোলা, চরফ্যাশন, পটুয়াখালী সদর, কলাপাড়া থানাসহ বরগুনার বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে। এমনকি একাধিকবার চোরাচালানি মামলায় সাজাও কেটেছেন প্রফুল্ল ও জয়দেব।
তাদের রেজিস্ট্রেশন বিহীন একাধিক ট্রলার ও কার্গো রয়েছে বলেও জানান স্থানীয়রা।
জানতে চাইলে পটুয়াখালী জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) সাজ্জাদুল ইসলাম সজল জানান, মালামাল জব্দ চলছে। প্রকৃত তথ্য দিতে একটু সময় লাগবে।
এফআর