যারা হাঁটে বীবরের পথে
ঘন রোদ ভরা কম্বুরেখ পথ ধরে
ক্রমাগত যারা বাতাসের দেহ ভেঙে
অচেনা আভাসে আস্থা রেখে অতি ধীরে,
নরম মেজাজে সব কোলাহল ছেড়ে
মহাসন্ধ্যা কিংবা তারও অনেক পরে
মাধবী অথবা তারাফোটা অন্ধকারে
শুধু হেঁটে গেছে; যারা অবসাদ ভুলে
কেবল হেঁটেছে বীবরের পথ ধরে
তারাই শুনেছে শুধু শব্দ দূরবর্তী,
কিংবা পাতায় পাতায় জড়ানো বাতাসে
কোনো এক বিকেলের অনুপম স্মৃতি,
অথবা কখনো কোনো ফেলে রাখা ছায়া
আর ভোরের পিছনে জড়ো করে রাখা
সূর্যের অমেয় নাভি দেখেছে কিছুটা।
কেন নেই ঘরগুলো
দ্বিধায় জড়ানো দিনে সাদা অনুপলে
দূরে কোলাহলে কোনো শব্দের ভেতর
নিজেকে নিকিয়ে রেখে গাঢ় বেখেয়ালে
যখন গহিন ভাবি, ঘর বলি কালে?
জানালার ফাঁক গলে দ্রুত ঢুকে পড়া
বাতাসের মতো করোটিতে যখনই
মিহি পথ করে করে সোনেলা স্মৃতিরা
ফণা উঁচু করে, তখন গহিন দেখি-
সারিবাঁধা গাছদের শাঁসালো পা-গুলো
মৃত হয়ে গেলে উড়ে যায় পাখিসব,
কখনো আকাশে মিনা করা কোনো দৃশ্যে
অথবা একাকী কোনো সাগরের পাশে-
যেন ঘর বদলায় ছায়াদের মতো
অথবা তেমন কিছু নেই সুবাসিত!
দূর থেকে উপগত হলে
শিকারি পাখির উড়ে যাওয়ার মতো
ছায়া ভুলে দূরে কোনো অভিভূত রোদে
যারা উড়ে যায়, অথবা উড়তে পারে,
যারা আকস্মিক জলজ বঙ্কিম কোনো
সরু রেখা ধরে নিজেকেই ক্রমাগত
অস্বীকার করে; কিংবা নিজ হাতে গড়া
বুদ্বুদের নাভি ছিঁড়ে রোদ লাগা চোখে
বহুবিধ শিষ রাখে বাইরে বাইরে
তারা জানে ভালো করে- চোখের সকল
জমে থাকা ক্ষত দূর থেকে দেখা হলে
বিস্তারিত সব অঘটন চোখে পড়ে-
নিজ জামা খুলে কোলাহল ভুলে থাকা
চুপ কোনো বনগ্রামে উপগত হলে
মনে হয় দূর থেকে দেখা যায় বেশি।
দ্বিধাগুলো অবিদিত
রাত্রিদের কোলাহল মুছে যাওয়ার
শব্দের ভেতর যদি কখনো প্রখর
আনকোরা রোদ আলুলায়িত স্বভাবে
অনায়াসে ঢুকে পড়ে; যদি খুব কাঁপে,
যদি আরো দ্বিধা আনে খুলে রাখা চোখে,
কিংবা ইশারায় করোটির চারপাশে
ভ্রান্তিদের জড়ো করে, অথবা করে না
কিংবা তাদের উত্তাপ ঘনীভূত করে
তখন কেবল যেন নিজেরই কাছে
জানু পেতে বসি, যেন ফিরে ফিরে আসি,
পথভোলা দ্বিধাদের যেন খুব চিনি,
রাত কিংবা অনিদ্রায় অথবা সন্ধ্যায়
মগজের কাছে শুয়ে শুয়ে শুধু দেখি
মরুভূমিরাত হেলে আছে কেবলই।
কাঁপে যারা অনিদ্রায়
অনুপম দেশে অদেখা ঋতুর ভাষা
যারা বোঝে কিংবা জানে, অথবা জানে না,
শাঁসালো রোদের পথে নিকানো কুয়াশা
আনে যারা অনায়াসে, অথবা আনে না,
কিংবা কাঁপে যারা মধু প্রকাশিত দিনে
কোনো আনকোরা ডাগর-ঘন সৌরভে
বস্তুগুলো উপেক্ষিতা কেবল যেখানে;
বিনা স্রোতে যারা ফণা রেখেছে অরূপে-
তারা বা অন্যরা, দেশে দেশে যত আছে
মানুষ সোনেলা, রাত হলে তারা জানে,
সকল তন্দ্রাহীনতা শুধু নখ রাখে
খুলে রাখা কোনো এক জাঁকালো সংশয়ে-
সাদা আলো যেন নিরেট নির্জনতায়
নিভু ইশারায় ঘন ঘন বেঁকে যায়।