রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস রমজান শেষে মুমিনের দ্বারে কড়া নাড়েছে খুশির ঈদ। আর এই ঈদের আগের রাতটিই আমাদের কাছে ‘চাঁদরাত’ হিসেবে পরিচিত।
ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় একে বলা হয় ‘লাইলাতুল জায়েজা’ বা পুরস্কারের রাত। যখন সাধারণ মানুষ কেনাকাটা আর উৎসবের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত থাকে, তখন মুমিন বান্দারা আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করে মাসব্যাপী ইবাদতের কবুলিয়ত ও জান্নাত প্রাপ্তির আর্জি জানায়।
হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে নবী করিম (স.) বলেন, যে ব্যক্তি পাঁচটি রাত (ইবাদতের মাধ্যমে) জাগ্রত থাকবে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে। রাতগুলো হলো—জিলহজ মাসের ৮ ও ৯ তারিখের রাত, ঈদুল আজহার রাত, ঈদুল ফিতরের রাত এবং ১৫ শাবানের রাত। (আত তারগিব ওয়াত তারহিব লিল মুনজেরি: ২/৯৮, হাদিস: ১৬৫৬)
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেন, যে ব্যক্তি জুমার রাত, রজব মাসের প্রথম রাত, অর্ধ শাবানের রাত এবং দুই ঈদের রাত—এই পাঁচ রাতে কোনো দোয়া করে; তার কোনো আবেদনই ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক: ৭৯২৭)
কেয়ামতের সেই ভয়াবহ দিনে যখন চারদিকে হাহাকার থাকবে, তখন চাঁদরাতের ইবাদতকারীর জন্য রয়েছে বিশেষ পুরস্কার। হজরত আবু উমামা বাহেলি (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (স.) বলেছেন, যে ব্যক্তি দুই ঈদের রাতে সওয়াবের আশায় ইবাদত করবে, তার হৃদয় সেদিনও জীবিত থাকবে, যেদিন সকল হৃদয়ের মৃত্যু ঘটবে। (সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৭৮২)
হজরত উবাদা ইবনে সামেত (রা.) বর্ণিত অন্য হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহার রাতকে (ইবাদতের মাধ্যমে) জীবিত রাখবে, তার অন্তর ওই দিন মরবে না, যেদিন অন্যদের অন্তর মরে যাবে। (আল মুজামুল আওসাত ১/৫৭, হাদিস: ১৫৯)
পবিত্র এই বরকতময় রাতে বাজারে বা মার্কেটে অযথা সময় নষ্ট না করে মুমিনদের উচিত আল্লাহর অভিমুখী হওয়া। আলেমদের মতে, অন্য নেক আমল যেমন সাধ্যানুযায়ী নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির-আজকার, ইস্তেগফার ও দোয়া-মোনাজাতে মশগুল থাকা বাঞ্ছনীয়। আসুন, এই মহিমান্বিত রাতে বিনোদনে মত্ত না হয়ে আখেরাতের পাথেয় সংগ্রহ করি।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে চাঁদরাতের পরিপূর্ণ ফজিলত অর্জনের তৌফিক দান করুন। আমিন।
এফআর