চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করা বিক্রয় প্রতিনিধি ফারুক হোসেন নিখোঁজের ঘটনায় অবশেষে নাটকীয় অবসান ঘটেছে। কোনো অপহরণ নয়, বরং পাওনাদারদের হাত থেকে বাঁচতে নিজেই নিখোঁজ হওয়ার নাটক সাজিয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘ ৩০ দিন পর শুক্রবার (২০ মার্চ) তার ফিরে আসার খবরে পুরো এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে আলমডাঙ্গা-হাটবোয়ালিয়া সড়কের বৈদ্যনাথপুর মাঠে পণ্য ডেলিভারি শেষে ১ লাখ ৩৭ হাজার টাকাসহ নিখোঁজ হন একটি ক্রোকারিজ দোকানের বিক্রয় প্রতিনিধি ফারুক হোসেন। ঘটনাস্থল থেকে তার ব্যবহৃত ভ্যান, জ্যাকেট এবং টাকার খালি ব্যাগ উদ্ধার হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ছিনতাই-অপহরণের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। ফারুকের পরিবার ও স্বজনরা তার জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগে ছিলেন।
তবে নিখোঁজের দীর্ঘ এক মাস পর ফারুক হোসেন নিজেই আলমডাঙ্গা থানায় হাজির হয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করেন।
তিনি জানান, কোনো অপহরণের শিকার হননি তিনি। বিভিন্ন এনজিও এবং ব্যক্তির কাছ থেকে নেওয়া ঋণের চাপে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে তিনি পরিকল্পিতভাবে আত্মগোপনে গিয়েছিলেন। এই সময়ে তিনি খুলনা রেলস্টেশন এলাকায় অবস্থান করে শ্রমিকের কাজ করেছেন এবং গত রাতে গোপনে বাড়িতে ফিরে আসেন।
এদিকে, ফারুকের এই ‘সাজানো নাটক’ ফাঁস হওয়ার পর স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, এমন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে সহানুভূতি আদায়ের জন্য এমন মিথ্যা নাটক সাজানোর প্রবণতা বিপজ্জনকভাবে বাড়বে।
এফআর