লবণ ও জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত কৃষক

রাকিবুল হাসান, মনপুরা (ভোলা)

সারাদেশ

ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় চলতি আমন মৌসুমে আমন চাষ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তা ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। আমন

2026-07-02T04:13:24+00:00
2026-07-02T04:13:24+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬,
১৮ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
লবণ ও জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত কৃষক
রাকিবুল হাসান, মনপুরা (ভোলা)
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৪:১৩ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় চলতি আমন মৌসুমে আমন চাষ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তা ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। আমন মৌসুমে এখন পর্যন্ত চারা রোপণ না করতে পেরে হতাশ হয়ে পড়েছেন তারা। প্রত্যেক বছর এই সমস্যায় পড়লেও কেউ সমাধানের উদ্যোগ নেয়নি। তাই প্রতি বছর অধিকাংশ জমিতে আমন চাষ করতে পারে না উপকূলের কৃষকরা।

আষাঢ়ের মাঝামাঝি সময়ে মাঠের পর মাঠ জোয়ারের লবণাক্ত পানি এবং ভারী বর্ষণজনিত দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত 
থাকায় বীজতলা তৈরি ও চারা রোপণ প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আমন উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, কোথাও হাঁটু পরিমাণ পানি, আবার কোথাও ১-২ ফুট পানি জমে জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত রয়েছে কৃষিজমি। ওই সমস্ত জমিতে জোয়ারের লবণাক্ত পানি প্রবাহিত হয়। অনেক কৃষক জমিতে এখন পর্যন্ত চাষাবাদে যায়নি। আবার অনেক কৃষক জমিতে আমনের চারা রোপণ করেছেন, সেই জমির আমনের চারা লবণাক্ত পানির প্রবাহে হলুদ হয়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে। 

হাজিরহাট ইউনিয়নের কৃষক ফারুক, উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের কৃষক আবদুর রহমান জানান, বর্ষায় বৃষ্টির পানিতে জমিতে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এর সঙ্গে আবার জোয়ারের লবণাক্ত পানি প্রবাহিত হয়। এতে আমাদের আমন চাষ কঠিন হয়ে পড়ে।

অন্যদিকে দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের কৃষক শাহে আলম ও মনপুরা ইউনিয়নের কৃষক ইব্রাহীমসহ অনেকে জানান, কৃষিজমিতে উৎপাদন খরচ বাড়ছে। এ ছাড়া প্রতি বছর জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ত পানির প্রবাহে আমন চাষ ব্যাহত হচ্ছে। এতে আমাদের আমন ফলন কম হওয়ায় লোকসান হচ্ছে প্রতি বছর। আমরা এর সুষ্ঠু সমাধান দাবি করছি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকরা জানান, উপজেলা চতুর্পাশে বেড়িবাঁধের কাজ চলছে এবং ত্রুটিপূর্ণ পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার কারণে জোয়ারের লবণাক্ত পানি অনায়াসেই ফসলি জমিতে ঢুকে পড়ছে। আমন ধানের শুরুর দিকে এই নোনা পানি চারার বৃদ্ধি থমকে দিচ্ছে এবং অনেক জায়গায় কচি চারা পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। 

এছাড়া স্লুইস গেট নষ্ট হয়ে পড়ায় জোয়ারের লবণাক্ত পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে জমির উর্বরতা কমে ফলন কম হচ্ছে। অন্যদিকে ভারী বৃষ্টির পর পানি নিষ্কাশনের সঠিক পথ বা ড্রেনেজব্যবস্থা না থাকায় মাঠের পর মাঠ মিষ্টি ও নোনা পানির মিশ্রণে জলমগ্ন হয়ে রয়েছে। কৃষকদের মতে, এই ‘জোড়া সংকট’ একদিকে লবণের ছোবল আর অন্যদিকে স্থায়ী জলাবদ্ধতা তাদের মেরুদণ্ড ভেঙে দিচ্ছে।

তারা দাবি করেন, জলাবদ্ধতা ও জোয়ারের পানি প্রবাহের পথগুলো ঠিক করার ব্যবস্থা করলে কৃষক ফসল উৎপাদন করতে পারবে। এতে কৃষক আর্থিক ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবে। মনপুরার প্রধান অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি এই কৃষি খাত। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, মাঠপর্যায়ে কৃষকদের এই সংকট থেকে বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে সরকারি উদ্যোগে লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতা সহনশীল ধানের বীজ সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। 

একই সঙ্গে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার স্থায়ী সমাধান না হলে আগামীতে এ অঞ্চলের খাদ্য নিরাপত্তায় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে।

এই ব্যাপারে মনপুরা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহসান তাওহীদ জানান, মাঠপর্যায়ে তদারকিসহ কৃষকদের সার্বিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষকের সমস্যার বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

সময়ের আলো/আআ


  বিষয়:   লবণ  জলাবদ্ধতা  বিপর্যস্ত  কৃষক 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: