কাউকাব সাদীর কবিতা

কাউকাব সাদী

সাহিত্য

হাওয়াই মিঠাইএকজীবনে হাওয়াই মিঠাই বিক্রি হতে দেখলাম। কখনো তার ক্রেতা দেখি নি। অথচ মিঠাইওয়ালারা ক্ষুদে ব্যবসায়ী বিবেচনায় উত্তম। তাদের ক্রেতারা

2026-03-20T22:05:42+00:00
2026-03-20T22:05:42+00:00
 
  সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬,
৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
সাহিত্য
কাউকাব সাদীর কবিতা
কাউকাব সাদী
প্রকাশ: শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬, ১০:০৫ পিএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
হাওয়াই মিঠাই

একজীবনে হাওয়াই মিঠাই বিক্রি হতে দেখলাম। কখনো তার ক্রেতা দেখি নি। অথচ মিঠাইওয়ালারা ক্ষুদে ব্যবসায়ী বিবেচনায় উত্তম। তাদের ক্রেতারা কি হাওয়ামিঠাইয়ের মতো উদ্বায়ী? আমি তাদের জিজ্ঞেস করেছি, ‘হাওয়াই মিঠাই যারা খায় তারা দেখতে কেমন?’

তারা ফ্যাক্টরি ঘরের আয়তন, প্রস্তুতকারকের গোঁফ আর নাম, এমনকি মিঠাই ঝুলানোর বাঁশের উচ্চতা ও পথের দূরত্ব মনে করতে পারল। কিন্তু কিছুতেই হাওয়াই মিঠাই ক্রেতাদের মুখ মনে করতে পারল না।



চেটিয়া হইচই উষর গ্রীষ্ম 

তুমি আমাকে শ্যামলীমার কথা অনেক বলেছো
আমার মাটির উর্বরতা 
বলেছো কতো সহজে দানামুক্তি পায় চারা
জানি আমি এই পলির স্নিগ্ধতা
ধূলিধূসরিত পাতার ক্লান্তি
চেটিয়া হইচই উষর গ্রীষ্ম
আরো সব ঘাম কাম ক্লিষ্ট খোঁয়াড়ের মহাবার্তা

কিন্তু আমি আর না
বন্ধু আমি চলে যাবো
তোমার দেহাভিযোজিত সেই মাঠে
মেরু অঞ্চলের নিকটবর্তী ফ্লেভারে
রেড ম্যাপল আর ওকের জঙ্গলে
তোমার বিষণ্ণতা আর স্মৃতিকাতরতার
ভূমিতে ক্লান্তি বিছিয়ে পড়ে থাকবো হাজারো দিন
হাত-পা— সমস্ত বুক ছুড়ে
তিনশত মাইলের ত্রিসীমানাতেও
আমাকে কেউ ডিস্টার্ব করবে না...



প্রথম

ছড়াবো না। কান্নার প্রথম ফোঁটার মতোই 
নতমস্তকে একধারে নিচে নেমে যাবো। 
তীব্র কান্নায় চোয়ালে 
গালে ঠোঁটে— তোমার দ্বিতীয় তৃতীয় 
ও অজস্র প্রেমিকের মতো ছড়াবো না।
ভুল ব্যস্টিকে ছড়াবো না তো...



জমক 

যতোদূর পরিক্রম, বিশালাকায় গিলে নিচ্ছে নিঃশ্বাস।
সকল সচেতনে ধামাচাপা পড়ে নিচুগ্রাম। স্বরগ্রামের
অর্থই, শোনো, উঁচুধ্বনি— 
দীর্ঘ অভিজ্ঞানে তা জেনেছি। জেব্রাক্রসিং পেরিয়ে
দেখেছি নগরীর দীর্ঘ বিলবোর্ড। তার লাস্যময়ী সুদন্তীই প্রতিরাতে সাথে করে বালিশের কাছে এসেছে

হাইওয়েতে গাড়ি নিয়ে বেরুলে দেখো,
টু-স্টোরিড ঘরগুলো আগাতে পারে না আর 
বাইশতলা ভবনটি বহুদূর সাথে চলে গেছে



শাশ্বত

দীর্ঘ পরিকল্পনা ঘুচিয়ে একটা আইবিস
ওপর থেকে নেমে গেলো 
বায়ুমণ্ডল থেকে নিচে মিশে গেলো সন্তর্পণে 
তীর চিহ্নের উড়ন্ত দলের সাথে;
কেউ টের পেলো না
একসাথে উড়ে গেলো তারা আর্কটিক ধরে।

এই নেমে আসা—কেউ না জানার
সারারাত থাকিবে
বুঝবে শাদার ঔজ্জ্বল্য,
তারাপুঞ্জ ছোটো দেখায় তাদের নিরিখে।
তারপর ক্লান্তি ও ক্ষীণ হৃদয়ে কোথাও
সবার সাথে ঘুমাবে
আবার আইবিস ভোরের আগে
পিটি প্যারেডের ফেলোদের দেখে নেবে:
কাউকে না জাগিয়ে ফিরে যাবে ফের,
অনেক তারার শাদাকে ম্লান করে দিয়ে
নিজের ডানার গৌরবে
শাশ্বত অন্তরীক্ষে...


  বিষয়:   সাহিত্য  কবিতা  কাউকাব সাদী 


Loading...
Loading...
সাহিত্য- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: