ডানা
পাখি হয়ে ওড়ার চেয়ে
মানুষ হয়ে পাখির মতো ভাবতে পারা আনন্দের
ওড়ার প্রশ্নে যদিও ডানা, আকাশ এসবের জটিলতা
জলের মতো গড়িয়ে আসে
তবু একটা নিশ্চিত জীবনের বাইরে
একটা অনিশ্চিত জীবনকে ধারণ করাও তো সহজ নয়
এভাবে তুমি নিজের থেকে নিজেকে
করে ফেলছ আলাদা
এর মানে এই নয় যে তুমি আলাদা
তুমি পৃথক অন্য কোনো বস্তু কিংবা জীব না
অথবা চিরমুক্ত নও তুমি
মুক্ত কেবল চিন্তা, তোমার চিন্তা
যা তুমি করতে পারো হরহামেশাই
অর্থাৎ যেকোনো প্রান্তে তুমি
সূর্যের মতো জেগে উঠতে পারো অথবা
সূর্যাস্তের মতো পারো ডুবে যেতে
যেতে যেতে, আরও যেতে যেতে আরও
তোমাকে তৈরি করতে হবে ভাষার ডানা
যেকোনো মুক্তির প্রশ্নে
যাকে তুমি ওড়াতে পারো
বিরহমুখরতা
প্রতিবার কাছে এসে জানি- চলে যাওয়ার বিরহ মুখরতা
আমি তাই সরু হয়ে ঢুকে পড়ি কোনো দুপুর বাড়িতে
উঠানে যার ফালি ফালি ছায়া; রোদ আর
বিপুল হাওয়ার সঙ্গমে কাঁপছে
জানালাহীন, দরজা বন্ধ প্রতিটা ঘর
যেন বোবা মানুষের মতো বিড়বিড় করে
দেয়ালের এক একটা দাগ
স্মৃতিচিহ্নের মতন ইশারাপ্রবণ
যার স্বর থেকে নেমে আসে ভূতপূর্বকাল
আমাকে ডাকে; ‘কাছে আয় কাছে আয়’
বোবা কোনো অন্ধের মতন!
উপনিবেশ
হাহা স্বরে বাতাস গিলে ফেলছে
তুমুল চৈত্রসংক্রান্তি
চতুর্দিকে টগবগে ঘোড়ার মত
ঝুঁকে আছে রোদের দুঃশাসন
গাছটা তাকায়ে আছে
মাটিতে পড়ে থাকা তার
খণ্ড খণ্ড ছায়ার দিকে
প্রি-মার্ক্সিস্ট
মেঝেতে পড়ে থাকা
ছোট্ট এক টুকরা রুটি
খিদার অনুপাতে
একদল পিঁপড়া খাইতেছে ভাগ করে
কার্ল মার্ক্সের অগোচরে
জানালা
একা বন্ধ ঘরে
গুমসে থাকা মেয়েটা দেখে
জানালার গ্রিলে বসে আছে
চেনা দৈনিক পাখি
কখনো সে ঘরে ঢোকে না
প্রত্যেকবার উড়ে যায়
বাইরের বিশাল বাড়িটার দিকে।