ফেরার পথ সব বন্ধ
আলেয়ার মতো বিলুপ্ত হয়ে গেছে সেই প্রেম,
একদিন ছিল এখানে, কবোষ্ণ হৃদয়ের ভেতর
আজ সব ধুলোবালি ছাই, আছে তার উচ্ছিষ্ট
তবু মনে হয় কিছু মায়া রয়ে গেছে কোথাও
এরকম সরল আলাপে দেখো দিব্যি বেঁচে আছি
থাকার কথা না, তবু কেন যে এই থাকাথাকি,
আমরা দুজনে আছি পরস্পরের কাছাকাছি
এমনও ভাবি হয়ত তুমি কোনো পরিযায়ী পাখি,
কখনো কিছুতেই কিছু যায়-আসে না, কখনো কেবলই হাহাকার
দ্বিধার ভেতর অবিরাম দুলি, মনে পড়ে আমাদের যৌথ অনাচার
আমরা স্বীকার করি না, যদিও দুজনেই আজও সমান প্রেমে অন্ধ,
তবু সত্যি এটাই—আমাদের পরস্পরের কাছে ফেরার সব পথ বন্ধ।
মরণ, ভূমধ্যসাগরে
আরও কিছু পয়সা আমি বাপেরে পাঠাইতে চাইছিলাম, ছিল না
আমি এমন ভাবছিলাম যে কিছু টাকা বাড়তি পাঠাইতে পারলে ভালো হয়
তবু ভাবনারা যে প্রায়ই নিরর্থক হয়, সেটা বাপও বোঝে, আমিও বুঝি
মায়ের হয়েছে বড়োলোকের অসুখ; তিনি চান না, তবু ঔষধ তাকে এতো ভালোবেসেছে!
আমরা সবাই ভালোবেসেও তার কাছাকাছি বাসতে পারলাম না।
কোনো সন্ধ্যায় এরকম হয় যে, সমস্ত মনোযোগ দিয়ে নিউজ লিখতেছি,
ফোন বেজে উঠবে তখন, ফোনটা করবেন বাপ নিজেই,
কারণটা যদিও দুজনেরই জানা—
তবু তিনি লালশাকের গল্প বলবেন, কতটা রক্তাক্ত আর পুষ্ট হয়েছে সেগুলো,
ঠিক কোন দিকের সুপারি গাছে কিছু পেকেছে
কোথায় লাউয়ের আরও দুটি নতুন মুড়া তিনি করলেন, এইসব;
বলতে বলতে তার কণ্ঠে এসে হতাশা ভর করবে,
তিনি বলবেন, ‘বিদেশ যাইতে হবে, নইলে কিছুই হবে না’
আমিও মাথা পেতে মেনে নেব, বলব, ‘যামুগা আমি’
এরপর সত্যিই একদিন বের হয়ে যাব ইউরোপের উদ্দেশে,
যেহেতু ইউরোপে খালি টাকা আর টাকা,
কিন্তু, গিয়ে আমি আটকা পড়ব গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে,
মাফিয়ারা আমাকে মারবে, আমি তারস্বরে চেঁচাব, ওরা আরও মারবে, আরও চেঁচাব
আমার পিঠ থেকে ছাল উঠে যাবে, আঙুল থেকে নখ
মাথার তালু থেকে চুল, আর জীবন থেকে শখ;
বাড়ির জমিটা বেঁচে বাপ আরও টাকা দিতে পারেন দালালকে, যেহেতু টাকাই দরকার বাপের—
টাকা যেহেতু ওদেরও দরকার, পেয়ে গেলে পরে
এক গভীর রাতে ওরা আমাকে ভাসিয়ে দেবে ট্রলারে,
সেই ট্রলারকে উল্টে দিবে সমুদ্রের ঢেউ
অথবা এমনও হতে পারে পাড় থেকে গুলি করবে কেউ,
তারপর আমার মরণ হবে ভূমধ্যসাগরের নীল জলরাশিতে ডুবে;
ডুবে যেতে যেতে, মরে যেতে যেতে, আমার কেবলই মনে হবে,
আরও কিছু পয়সা আমি বাপেরে পাঠাইতে চাইছিলাম, কিন্তু আমার কাছে ছিল না।