বগুড়ার আদমদীঘিতে বোনের বাড়িতে ঈদ করতে এসে প্রতিপক্ষের মারপিটে উম্মে হাবিবা উর্মি (৩২) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নিহতের বোন, ভগ্নিপতি ও তাদের দুই সন্তান গুরুতর আহত হন। এসব ঘটনায় থানায় একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।
রোববার (২২ মার্চ) আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান এজাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত উম্মে হাবিবা উর্মি নওগাঁর রানীনগর উপজেলার ভেবরা গ্রামের বাসিন্দা। সম্প্রতি তিনি তার বোনের বাড়ি উজ্জ্বলতা গ্রামে বেড়াতে এসেছিলেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মামলার বাদী উম্মে হাফিজার সঙ্গে প্রতিবেশী কহির ফকির ও সিরাজুল ইসলামদের দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ চলছিল। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে হাফিজা ও তার ছেলেকে মারধরের ঘটনায় একটি মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। বিবাদী পক্ষ দীর্ঘদিন ধরেই মামলাটি তুলে নেওয়ার জন্য হাফিজার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যায় হাফিজা ও তার বোন উর্মি কেনাকাটার উদ্দেশ্যে আদমদীঘি যাওয়ার পথে ওত পেতে থাকা ১৩-১৪ জন হামলাকারী রামদা, কুড়াল, শাবল ও লোহার রড নিয়ে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
হামলাকারীরা প্রথমে হাফিজার স্বামী ফয়সাল ইসলাম লিটনের মাথায় কুড়াল দিয়ে আঘাত করে। তাকে বাঁচাতে হাফিজা, তার মেয়ে নুসরাত জাহান, ছেলে ফারসিদ ও ছোট বোন উর্মি এগিয়ে এলে বিবাদীরা তাদেরও এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে। প্রাণ বাঁচাতে উর্মি স্থানীয় একটি বাড়িতে আশ্রয় নিলে হামলাকারীরা সেখানে ঢুকে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে। মাথায় ও শরীরে গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই উম্মে হাবিবা উর্মির মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান জানান, খবর পেয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে।
এফআর