বরগুনার তালতলী উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন ও স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের হুমকিতে লামিয়া (১৯) নামের এক নববধূর মৃত্যুর হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের প্রবাসী জাহাঙ্গীর গাজীর মেয়ে লামিয়ার সঙ্গে প্রায় ১০ মাস আগে নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের মোয়াপাড়া গ্রামের বেল্লাল হাওলাদারের ছেলে আরিফ বিল্লাহর পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের সময় উভয় পরিবারের মধ্যে সমঝোতা ছিল। লামিয়ার বাবা মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরলে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে শ্বশুরবাড়িতে তুলে দেওয়া হবে। কিন্তু এর আগেই স্বামীর পরিবার তাকে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যায়। বিয়ের সময় প্রায় ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে ছেলেকে একটি স্বর্ণের আংটি উপহার দেওয়া হয় এবং মেয়েকে একটি নাকফুল দেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, শ্বশুর বেল্লাল হাওলাদার, শাশুড়ি আসিয়া বেগম ও দেবর আতিকুর যৌতুকের দাবিতে লামিয়ার ওপর নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। একপর্যায়ে স্বামী তাকে ঢাকায় নিয়ে যান। কিন্তু সেখানেও অবহেলা অব্যাহত থাকে। এমনকি সংসারের ন্যূনতম খরচ ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও তাকে ঠিকমতো দেওয়া হতো না বলে অভিযোগ পরিবারের।
লামিয়ার মা হামিদা বেগম বলেন, বিয়ের সময় তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী স্বর্ণের আংটিসহ বিভিন্ন উপহার দেওয়া হয়েছে। এরপরও তার মেয়ের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। বারবার টাকা দাবি করা হতো। টাকার জন্যই আমার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। এর সঠিক বিচার চাই।
হামিদা বেগম আরও বলেন, ব্যবসার জন্য ২ লাখ টাকা দাবি করে ঈদের আগেই লামিয়াকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু প্রবাসী বাবা টাকা পাঠাতে ব্যর্থ হওয়ায় স্বামী দ্বিতীয় বিয়ের হুমকি দেন। এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে লামিয়া।
পরে রোববার (২২ মার্চ) রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে বাবার বাড়িতে চাল সংরক্ষণের বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট খায়। গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে আনুমানিক রাত ১টার দিকে পথে তার মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে নিহতের স্বামী আরিফ বিল্লাহ মোবাইলফোনে বলেন, পারিবারিকভাবে বিয়ে হলেও তার স্ত্রী তাকে পছন্দ করতেন না এবং সংসার করতে চাননি। তাদের পক্ষ থেকে কোনো যৌতুক দাবি করা হয়নি এবং শ্বশুরবাড়ি থেকে কিছু নেওয়া হয়নি। তবে উপহার হিসেবে একটি আংটি দেওয়া হয়েছিল। রমজানে স্ত্রী বাবার বাড়িতে গেলে তিনি নিজেই তাকে পৌঁছে দেন। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। গত ২৮ রমজানে ঈদের জন্য কেনাকাটা করে আমার বাবা স্ত্রীর বাবার বাড়িতে যেতে চাইলে তারা সে উপহার গ্রহণ করেননি। গত রাত ৩টার দিকে গ্যাস ট্যাবলেট সেবনের খবর পাই।
তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মো. শরিফুল ইসলাম জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় তালতলী থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে।
সময়ের আলো/জোই