ঈদের আনন্দ কেবল ঘরে কিংবা কোলাকুলিতেই সীমাবদ্ধ নেই, উত্তরের জনপদ পঞ্চগড়ে সেই আনন্দ ডানা মেলেছে অবারিত প্রকৃতিতে। ‘হিমালয়কন্যা’ খ্যাত এই জেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে এখন বইছে উৎসবের মাতোয়ারা হাওয়া। ঈদের দিন থেকে শুরু করে আজ তৃতীয় দিনেও পঞ্চগড়ের বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে তিল ধারণের ঠাঁই নেই।
সমতলের চা বাগান আর সীমান্তের নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশি-বিদেশি হাজার হাজার পর্যটকের পদভারে মুখর এখন উত্তরের এই জনপদ। তেঁতুলিয়ার ঐতিহাসিক ডাকবাংলো পিকনিক কর্নার, দেশের একমাত্র চতুর্দেশীয় স্থলবন্দর বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট, মহানন্দা নদীর তীর, ভিতরগড় মহারাজা দিঘি এবং মিড়গড় ইকো পার্কে তিল ধারণের জায়গা নেই।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলা ইকো পার্ক থেকে শুরু করে হিমালয় পার্ক কিংবা চাউয়াই নদীর পাড়—প্রতিটি স্থানেই ছিল উপচে পড়া ভিড়। নবদম্পতি থেকে শুরু করে পরিবার-পরিজন নিয়ে দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকরা মেতে উঠেছেন অনাবিল আনন্দে। শিশুদের কলকাকলিতে মুখর হয়ে উঠেছে প্রতিটি স্পট। কেউ মেতেছেন ঘোড়ার গাড়ির ভ্রমণে, কেউবা ওয়াচ টাওয়ারে উঠে দেখছেন দিগন্তজোড়া সবুজের সমারোহ।
পঞ্চগড়ের প্রধান আকর্ষণ এখন সমতলের বিশাল চা বাগান। পাহাড়ের ঢালু নয়, বরং সমতলের বুকে বিছানো সবুজের গালিচা দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন দর্শনার্থীরা।
তেঁতুলিয়া পিকনিক কর্নারে সপরিবারে ঘুরতে আসা শাহিন ও মেঘনা দম্পতি জানান, এবারের ঈদটা আমাদের জন্য একটু অন্যরকম। যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি কাটাতে পরিবার নিয়ে এখানে এসেছি। চা বাগান আর মহানন্দা নদীর সৌন্দর্য দেখে মন ভরে গেছে।
শুধু চা বাগানই নয়, সীমান্তের গ্রামগুলোর সরল জীবনযাত্রা, বয়ে যাওয়া স্বচ্ছ জলের নদী আর হিমালয়ের শীতল পরশ পর্যটকদের বারবার এখানে টেনে আনে।
পর্যটকদের মতে, পঞ্চগড়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও আতিথেয়তা পর্যটন শিল্পে নতুন এক মাত্রা যোগ করেছে।
এদিকে, আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশ নিবিড়ভাবে কাজ করছে। বড় বড় স্পটগুলোতে মোতায়েন রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য। মহাসড়কে যানজট নিরসন ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সেনাবাহিনী এবং পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।
তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আফরোজ শাহিন খসরু বলেন, পর্যটকদের প্রতিনি মুহূর্ত যাতে আনন্দময় ও নিরাপদ হয়, সেজন্য আমরা সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছি। সরকারি স্পটগুলোতে যাতায়াত ও অবস্থান আগের চেয়ে অনেক বেশি সহজতর করা হয়েছে।
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পঞ্চগড়ের এই বিপুল পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ আরও বাড়ানো গেলে এটি হবে দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র।
ঈদের এই লম্বা ছুটিতে সবুজের মায়ায় হারিয়ে যেতে আর হিমালয়ের শীতল হাওয়া গায়ে মাখতে পঞ্চগড় এখন পর্যটকদের প্রিয় ঠিকানায় পরিণত হয়েছে। রঙিন এই উৎসবের রেশ আরও কয়েক দিন থাকবে বলে আশা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
এফআর