তীব্র জ্বালানি সংকটে স্থবির হয়ে পড়েছে গাইবান্ধা জেলার স্বাভাবিক যানচলাচল। পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় জেলার সব স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকসহ পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।
সোমবার (২৩ মার্চ) বিকেলে গাইবান্ধা পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান উজ্জ্বল বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এদিন শহরের বিভিন্ন পাম্প ও উপজেলা পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে বন্ধ থাকার একই চিত্র দেখা যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার সাত উপজেলায় থাকা মোট ১৭টি ফিলিং স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে।
সংকট মোকাবেলায় জেলা প্রশাসন পাম্প মালিকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেছে। বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে শুরু হওয়া এ বৈঠকে সংকটের কারণ ও সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।
চাহিদার অর্ধেক সরবরাহ
ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা জানান, জেলায় প্রতিদিন প্রায় ৭ হাজার লিটার পেট্রোল, ৪ হাজার লিটার অকটেন এবং ৩২ হাজার লিটার ডিজেলের চাহিদা রয়েছে। তবে গত কয়েক দিনে সরবরাহ এসেছে এর অর্ধেকেরও কম। ফলে পাম্পগুলোতে স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব হয়নি।
উত্তেজনা ও হামলার ঘটনা
জ্বালানি সংকটকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে। শহরের দাড়িয়াপুর রোডের একটি ফিলিং স্টেশনে তেল না পেয়ে ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের হামলায় দুই কর্মচারী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের মাথায় গুরুতর আঘাত পান। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পাম্প বন্ধে নিরাপত্তা শঙ্কা
শহরের অন্যতম বড় পাম্প এস এ কাদির অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশন তিন দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ক্যাশ সরকার মিঠু মিয়া বলেন, তিন দিন ধরে কোনো তেল নেই। পর্যাপ্ত সরবরাহ না পাওয়া পর্যন্ত পাম্প চালু করা সম্ভব নয়। অল্প তেল দিয়ে বিক্রি শুরু করলে জনরোষ ও সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকে।
একই চিত্র রহমান ফিলিং স্টেশনেও। ম্যানেজার জুয়েল মিয়া জানান, প্রথমে মোটরসাইকেলে ২০০ টাকার তেল দেওয়া হলেও পরে তা ১০০ টাকায় নামিয়ে আনা হয়। শেষে তেল একেবারে শেষ হয়ে যাওয়ায় পাম্প বন্ধ করতে হয়েছে।
খোলা বাজারে বাড়তি দামে বিক্রির অভিযোগ
এদিকে সংকটের সুযোগে খোলা বাজারে অতিরিক্ত দামে জ্বালানি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ক্রেতাদের দাবি, প্রতি লিটার তেল ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়েছে।
আতঙ্কে মজুদ, বাড়ছে সংকট
পাম্প মালিকদের দাবি, বাইরের এলাকা থেকে অতিরিক্ত মোটরসাইকেল আসা, আতঙ্কে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ এবং মজুদ করার প্রবণতাই সংকটকে তীব্র করেছে। এর সঙ্গে চাহিদার তুলনায় অর্ধেক সরবরাহ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা, তবু মিলছে না তেল
তেল পাওয়ার আশায় শহরের বিভিন্ন পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে মোটরসাইকেল চালকদের। অনেকেই দীর্ঘ অপেক্ষার পর খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন।
ভুক্তভোগী বাইকার সাগর মিয়া বলেন, সরকার বলছে তেলের ঘাটতি নেই, কিন্তু বাস্তবে সব পাম্প বন্ধ। আমরা চরম বিপদে আছি।
আরেক গ্রাহক সিয়াম আহমেদ জানান, তিন দিন গাড়ি বের করিনি। আজ বের হয়ে চারটি পাম্প ঘুরেও কোথাও তেল পেলাম না।
দ্রুত সমাধান না হলে বিপর্যয়ের আশঙ্কা
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে জেলার পরিবহন ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়তে পারে এবং জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।
পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান উজ্জ্বল বলেন, জেলার ১৭টি পাম্পই এখন বন্ধ। কোথাও পেট্রোল-অকটেন নেই। শুরু থেকেই চাহিদার অর্ধেক সরবরাহ পাওয়া গেছে, যা সংকটকে তীব্র করেছে।
এফআর