পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দের রেশ এখনো কাটেনি। ঈদের তৃতীয় দিনেও পদ্মা সেতু এলাকায় দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়স্বজন নিয়ে ঈদের ছুটি উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ ছুটে আসছেন শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রমত্তা পদ্মা নদীর নির্মল বাতাস আর সেতুর নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে দর্শনার্থীরা দিনভর মেতে আছেন আনন্দঘন মুহূর্তে। জাজিরার নাওডোবা থেকে শিবচরের কাঁঠালবাড়ি পর্যন্ত নদীর তীরজুড়ে যেন এক বিশাল মিলনমেলা বসেছে।
হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে নদীর পাড়ে বসেছে অস্থায়ী মেলা। সেখানে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা খেলনা ও বিভিন্ন মুখরোচক খাবারের পসরা সাজিয়ে বসেছেন।
ফরিদপুরের নগরকান্দা এলাকা থেকে পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের নিয়ে পিকনিকে এসেছেন রাশেদ মাহমুদ।
তিনি বলেন, পরিবারের অধিকাংশ সদস্যই ব্যস্ততার কারণে একসঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পান না। তাই ঈদের ছুটিকে ঘিরে সবাই মিলে পদ্মা সেতু এলাকায় পারিবারিক মিলনমেলা আয়োজন করেছেন। এতে আনন্দ-আড্ডায় একটি স্মরণীয় দিন কেটেছে।
সেতু এলাকায় ঘুরতে এসে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন সিলেটে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত তানভীর হাসান। স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে প্রথমবারের মতো দক্ষিণাঞ্চলে এসে তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরেই পদ্মা সেতু দেখার আগ্রহ ছিল। তবে পর্যটকদের জন্য আরও উন্নত ও পরিকল্পিত সুবিধা গড়ে তোলার প্রয়োজন।
এদিকে, নরসিংদী থেকে কুয়াকাটাগামী শিক্ষক দম্পতি মাহবুব আলম ও সাদিয়া রহমান দুই সন্তানসহ যাত্রাবিরতি দিয়ে পদ্মা সেতু এলাকা ঘুরে দেখেন। তারা জানান, দীর্ঘদিনের ইচ্ছা পূরণ করতে ঈদের ছুটিতে ভ্রমণের পরিকল্পনায় পদ্মা সেতুকে যুক্ত করেছেন।
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মালিগ্রাম এলাকার রুবেল শেখ পদ্মা সেতু এলাকায় ঘুরে ঘুরে শিশুদের খেলনা ও সাজসজ্জার সামগ্রী বিক্রি করেন।
তিনি বলেন, সেতু চালুর পর থেকেই এখানে দর্শনার্থীদের আনাগোনা রয়েছে, তবে ঈদের সময় সেই সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এতে তাদের বেচাকেনাও ভালো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের জুন মাসে উদ্বোধনের পর পদ্মা সেতু দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীসহ অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। বর্তমানে এটি শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং একটি জনপ্রিয় ভ্রমণকেন্দ্র হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছে।
এফআর