ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং এর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ফিলিপাইনেও জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বিমান চালনায় ব্যবহৃত জেট ফুয়েল অভাবে দেশটি বিমান পরিষেবা বন্ধ করার বিষয়টি বিবেচনা করছে।
সোমবার (২৩ মার্চ) ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জেআর জানান, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে জ্বালানি ক্রমেই দুর্লভ হয়ে উঠছে। আগে যেসব দেশ থেকে আমরা জেট ফুয়েল কিনতাম, তারা এখন বিক্রি করতে অনিচ্ছুক। ফলে বিমান সংস্থাগুলোকে দেশের নিজস্ব মজুতের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। তবে সেই মজুত দীর্ঘকাল টিকবে না। যদি যুদ্ধ দ্রুত শেষ না হয় এবং সরবরাহ স্বাভাবিক না হয়, তাহলে সম্ভবত খুব শিগগিরই আভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা আশা করছি এমন পরিস্থিতি হবে না। কিন্তু যদি সত্যিই এমন হয়, আমাদের আর কোনো বিকল্প থাকবে না।
ইরানের পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে দেশটির দ্বন্দ্ব বহু দশক ধরে চলেছে। গত ৪ ফেব্রুয়ারি এই বিষয়গুলো নিয়ে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিরা বৈঠকে বসেন। কয়েক দফা আলোচনার পর ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো চুক্তি ছাড়াই সংলাপ শেষ হয়।
সংলাপ শেষ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করে এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালি এবং পারস্য উপসাগরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রুট অবরোধ ঘোষণা করেছে। তারা জানিয়েছে, যুদ্ধ চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল বা তাদের মিত্র দেশের কোনো জাহাজ দেখা গেলে হামলা চালানো হবে।
ব্রিটেনের সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে হরমুজ প্রণালিতে ১০টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজে আইআরজিসি হামলা চালিয়েছে।
/ইউএমএইচ