জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় স্ত্রী তুলে নেওয়াকে কেন্দ্র করে জামাই ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে সোহেল রানা (৩২) নামে এক যুবক নিহত হন।
এদিকে, নিহতের লাশ দেখে হার্ট অ্যাটাক (স্ট্রোক) করে মঞ্জু মিয়া (৪২) নামে আরেক প্রতিবেশীর মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (২৩ মার্চ) রাত ৯টার দিকে উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের দোলভিটি পূর্বপাড়া গ্রামে এই জোড়া মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। নিহত দুজনই ওই গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে দোলভিটি গ্রামের লিটন মিয়ার মেয়ের সঙ্গে পাশের চাপারকোনা গ্রামের জাহাঙ্গীরের ছেলে রনি মিয়ার বিয়ে হয়। তবে ঈদুল ফিতরের পরদিন গৃহবধূকে স্বামীর বাড়িতে তুলে নেওয়ার কথা ছিল। সে অনুযায়ী গতকাল সোমবার রাতে রনি মিয়া লোকজন নিয়ে বউ আনতে যান।
তবে মেয়ের পরিবার আবারও ঈদের পর বউকে তুলে দেওয়ার করার কথা জানালে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। যা একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। স্থানীয়রা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়।
এ সময় নিহত সোহেল রানা সংঘর্ষ থামাতে গেলে লাঠির আঘাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এদিকে, সোহেলের নিথর দেহ দেখে প্রতিবেশী মঞ্জু মিয়া হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্থানীয়দের ধারণা, তিনি স্ট্রোক করেন মারা গেছেন।
এ ঘটনায় নিহত সোহেল রানার বাবা শাহজাহান আলী বাদী হয়ে একই গ্রামের লিটন মিয়াকে প্রধান আসামি করে সরিষাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।
সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাচ্চু মিয়া জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মামলার প্রক্রিয়া চলছে এবং জড়িতদের শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।
এফআর