মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনীতিকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলায় দেশ দুটি ইরানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সক্রিয়ভাবে যোগদানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল' এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিয়াদ সম্প্রতি মার্কিন বাহিনীকে তাদের সীমানার ভেতরে অবস্থিত কিং ফাহদ বিমান ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে।
আরব উপদ্বীপের পশ্চিম দিকে অবস্থিত এই ঘাঁটিটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার মাধ্যমে উপসাগরীয় দেশগুলো যুদ্ধের আরও সক্রিয় ভূমিকার দিকে ধীরে ধীরে অগ্রসর হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলা চালিয়ে যুদ্ধ শুরু করার পর রিয়াদ প্রাথমিকভাবে মার্কিন বাহিনীকে নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকার করেছিল।
সিদ্ধান্তটির সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, সৌদি আরবের সরাসরি যুদ্ধে প্রবেশ করা এখন কেবল সময়ের ব্যাপার।
গত সপ্তাহে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ইরানি হামলার প্রতি তাদের ধৈর্য অসীম নয়। ইরানের ক্রমাগত হামলায় সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনীতি ব্যাপকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালীর ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ঝুঁকি তৈরি করেছে। এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস প্রবাহিত হয়, যা বর্তমানে কার্যত অবরুদ্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে।
শক্তি প্রয়োগের প্রাথমিক বিরোধিতা থাকলেও বর্তমানে উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ওপর হামলা অব্যাহত রাখতে চাপ দিচ্ছে। তারা চাইছে এই যুদ্ধের শেষে ইরানের সামরিক শক্তি যেন এতটাই হ্রাস পায় যে তারা এই অঞ্চলের জন্য আর কোনো হুমকি হয়ে না থাকে।
তবে 'দ্য টাইমস অব ইসরায়েল' এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, উপসাগরীয় নেতারা একটি ব্যাপকতর ও অনিয়ন্ত্রিত সংঘাত শুরু হওয়ার ব্যাপারে এখনও শঙ্কিত। ফলে তারা এখন পর্যন্ত সরাসরি বা প্রকাশ্যে নিজস্ব সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেনি, তবে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত করছে।
সংঘাতের এই পর্যায়ে ইরান ইতিমধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলি সম্পদ লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই দুই প্রধান মিত্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দেওয়ার প্রায় দ্বারপ্রান্তে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সময়ের আলো/আরবিএন