মোবাইলে পরিচয়,এরপর প্রেম। আর প্রেমের টানেই প্রেমিকার বাড়িতে ছুটে যান ১৮ বছরের তরুণ মারুফ।
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর থেকে কুষ্টিয়ায় প্রেমিকার বাড়িতে যান তিনি। কিন্তু পরক্ষণেই ভাঙে সাজানো স্বপ্ন। সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন তার প্রেমিকা শুধু বিবাহিতই নয়, রয়েছে দুই সন্তান। এসময় তিনি প্রেমিকার ক্ষোভ ও প্রতারণার আঘাত সহ্য করতে না পেরে প্রেমিকার বাড়িতে নিজের বলি দেন। বিষপান করে নিজের জীবনের আত্মাহুতি দেন তিনি।
নিহত মারুফ কমলনগর উপজেলার চরলরেন্স ইউনিয়নের ডাকাতেরপোল এলাকার সবুজ মিস্ত্রির ছেলে। পেশায় তিনি ছিলেন একজন কাঠমিস্ত্রি।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার মাস আগে কুষ্টিয়ার মিরপুর এলাকার স্বপ্না নামের এক নারীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে পরিচয় হয় মারুফের। মারুফ জানতেন স্বপ্না অবিবাহিত। এবারের ঈদে ঢাকাতে ফুফুর বাসায় অবস্থান করলেও মঙ্গলবার সকালে স্বপ্নার সঙ্গে দেখা করতে কুষ্টিয়ায় যান তিনি। সেখানে গিয়ে স্বপ্নার পারিবারিক জীবনের আসল সত্য সামনে আসতেই মারুফ মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং দুপুরে বিষপান করেন।
পরে গুরুতর অবস্থায় স্বপ্না নিজেই তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারুফের মৃত্যু হয়।
এদিকে, ঘটনার পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, স্বপ্না স্বীকার করছেন তিনি বিবাহিত এবং দুই সন্তান রয়েছে। ১৫ বছর আগে তার বিয়ে হয়েছে।
ভিডিওতে ওই নারী ভুল-স্বীকার করে দাবি করেন, তিনি মারুফকে সম্পর্ক থেকে সরে আসতে বলেছিলেন, কিন্তু মারুফ তা মানেননি। তবে মারুফের পরিবারের দাবি, ওই নারী বিয়ের তথ্য গোপন করে কৌশলে মারুফকে পরকীয়ায় জড়িয়েছিলেন।
এদিকে, মারুফের বাবা এক গণমাধ্যমকে বলেন, আমার একমাত্র সন্তান মারুফ। তাকে বড় কষ্ট করে মানুষ করেছি। অভাবের কারণে আমার সঙ্গে মাঝে মধ্যে কাজে নিয়ে যেতাম। ওই মেয়ের ফাঁদে পড়ে ছেলেটা আমার চলে গেলো। আমি এর বিচার চাই।
তবে, এ বিষয়ে জানতে কমলনগর থানার ওসি ফরিদুল আলমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
/ইউএমএইচ