বালাসীঘাটে আনন্দের উচ্ছ্বাস

কায়সার রহমান রোমেল, গাইবান্ধা

সারাদেশ

ঈদের আনন্দ শেষ হলেও তার রেশ এখনো লেগে আছে উত্তরাঞ্চলের জনপদের গাইবান্ধায়। বিশেষ করে জেলার ফুলছড়ি উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের তীরজুড়ে

2026-03-25T17:25:50+00:00
2026-03-25T17:25:50+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
বালাসীঘাটে আনন্দের উচ্ছ্বাস
কায়সার রহমান রোমেল, গাইবান্ধা
প্রকাশ: বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬, ৫:২৫ পিএম 
ব্রহ্মপুত্র পাড়ে ঈদের রেশ। ছাব : সময়ের আলো
ঈদের আনন্দ শেষ হলেও তার রেশ এখনো লেগে আছে উত্তরাঞ্চলের জনপদের গাইবান্ধায়। বিশেষ করে জেলার ফুলছড়ি উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের তীরজুড়ে যেন উৎসবের ঢেউ থামছেই না। পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে মানুষ ছুটে আসছে বালাসীঘাটে-প্রকৃতির কাছাকাছি গিয়ে একটু নির্মল সময় কাটাতে, একটু ভিন্ন স্বাদের আনন্দ খুঁজে নিতে।

ঈদের ছুটি শেষ হলেও অনেকেই এখনো গ্রামে অবস্থান করছেন। শহরের ব্যস্ত জীবন থেকে দূরে এসে এই অবসর সময়টুকু তারা কাজে লাগাচ্ছেন ঘোরাঘুরি আর বিনোদনে। গাইবান্ধা শহরের পৌর পার্ক, এসকেএস ইন কিংবা শহরতলির ফ্রেন্ডশিপ সেন্টারে ভিড় থাকলেও বেশিরভাগ মানুষেরই প্রথম পছন্দ হয়ে উঠেছে ব্রহ্মপুত্রের তীরবর্তী বালাসীঘাট।

সকাল থেকে রাত-দিনের প্রতিটি সময়েই এখানে দেখা যায় ভিড়। কেউ নৌকায় চড়ে নদীর বুকে ভাসছেন, কেউ’বা নেমে যাচ্ছেন আশপাশের চরাঞ্চলে। চররসুলপুর, গুপ্তমনি, উজালডাঙ্গা কিংবা ফুলছড়ির বিস্তীর্ণ চরে গিয়ে ভুট্টাক্ষেতের পাশে বসে গল্পে মেতে উঠছেন অনেকে। নদীর ঢেউ, মেঘলা আকাশ আর দূরের গর্জন-সব মিলিয়ে এক অন্যরকম পরিবেশ তৈরি হয়েছে এখানে।

আবহাওয়া কখনো অনুকূলে না থাকলেও তাতে যেন ভ্রমণপিপাসুদের আগ্রহে ভাটা পড়ছে না। খেয়া নৌকা কিংবা ভাড়া করা নৌকায় চড়ে দল বেঁধে ছুটছেন তারা। কেউ নদীর বুকেই সময় কাটাচ্ছেন, আবার কেউ চরভূমির নরম বালিতে পা রেখে উপভোগ করছেন প্রকৃতির ছোঁয়া। এই আনন্দঘন মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ভাগ করে নিচ্ছেন তরুণ-তরুণীরা।

স্থানীয় মাঝি মোন্নাফ গাজী বলেন, ঈদের আগের দিন থেকেই মানুষ আসতে শুরু করেছে। এখনো প্রতিদিনই ভিড় বাড়ছে।

তিনি জানান, নদীতে চর জেগে ওঠার কারণে দূরপাল্লার নৌযাত্রা কমে যাওয়ায় তাদের আয় কিছুটা কমেছিল। তবে ঈদের এই ভ্রমণপিপাসু মানুষের ঢল সেই ঘাটতি অনেকটাই পুষিয়ে দিচ্ছে।

মাঝিরা একদল যাত্রীকে চরে নামিয়ে আবার নতুন যাত্রী নিয়ে ঘাটে ফিরছেন। এভাবেই চলছে তাদের ব্যস্ততা। জনপ্রতি ৪০ থেকে ৮০ টাকায় পারাপার করা যাচ্ছে, আবার ঘণ্টা হিসেবে নৌকা ভাড়া করলে ৩০০ টাকা পর্যন্ত আয় হচ্ছে। ঈদের মৌসুমে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করছেন অনেক মাঝি ও নৌকা মালিক।

চাকুরিজীবী রাকিব হাসান পরিবার নিয়ে এসেছেন বালাসীঘাটে। 

তিনি বলেন, এখানে এলে মনটা ভরে যায়। ঈদের সময় তো এই জায়গাটা আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। নৌকায় করে ওপারে চলে যাওয়া যায়। ওখানে ঘোড়ার গাড়ি পাওয়া যায়। ভুট্টাক্ষেতের ভেতর দিয়ে ঘোরাঘুরি করতে খুব ভালো লাগে। শহরের একঘেয়ে জীবন থেকে বের হয়ে বাচ্চারাও খুব আনন্দ পাচ্ছে।

তিনি আরও জানান, সারা বছরই ভ্রমণপ্রেমীদের আনাগোনা থাকে বালাসীঘাটে, তবে উৎসবের সময় তা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। সকাল থেকেই মানুষের ভিড় শুরু হয়, আর দুপুরের পর তা হয়ে ওঠে আরও ঘন। রাত পর্যন্ত থাকে সেই জমজমাট পরিবেশ।

শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই নয়, বালাসীঘাটে এখন গড়ে উঠেছে এক ধরনের অস্থায়ী মেলার পরিবেশ। ফুসকা, চটপটি, ঝালমুড়ি, আইসক্রিমসহ নানা ধরনের খাবারের দোকান বসেছে ঘাটজুড়ে। শিশুদের জন্য রয়েছে খেলনার দোকান, নাগরদোলাও যোগ করেছে উৎসবের আমেজ।

ঐতিহাসিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ এই বালাসীঘাট। একসময় এটি ছিল রেলওয়ের ফেরিঘাট। যাত্রীরা ট্রেনে এসে এখানে নেমে ফেরিতে নদী পার হয়ে আবার অন্য প্রান্তে ট্রেনে উঠতেন। তবে নাব্যতা সংকটসহ নানা কারণে ১৯৯৮ সালে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সময়ের সঙ্গে বদলে গেলেও হারিয়ে যায়নি এই ঘাটের আকর্ষণ বরং নতুনভাবে প্রকৃতি আর মানুষের মিলনে তা পেয়েছে ভিন্ন মাত্রা।

গাইবান্ধা শহর থেকে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই বালাসীঘাটে যাতায়াতও সহজ। অটোরিকশায় জনপ্রতি ২০ টাকায় পৌঁছে যাওয়া যায়। সহজ যাতায়াত, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর উৎসবমুখর পরিবেশ; সব মিলিয়ে ঈদের পরের এই সময়েও বালাসীঘাট হয়ে উঠেছে আনন্দ খোঁজার অন্যতম গন্তব্য।

সময়ের আলো/আরবিএন 


  বিষয়:   গাইবান্ধা  ফুলছড়ি  ব্রহ্মপুত্র  বালাসীঘাট 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: