মুক্তিযুদ্ধে পাকবাহিনীর গুলিতে শহিদ হন স্বামী। মসজিদ থেকে ধরে নিয়ে স্বামী জেন্নাত আলী মৃধাকে যখন হত্যা করা হয় তখন স্ত্রী সকিনা বেগমের গর্ভে সন্তান। আজ সেই গর্ভের ছেলে সন্তানের বয়স ৫৪ বছর, কাজ করছেন দিনমজুর হিসেবে। তবে মুক্তিযুদ্ধে অবদানে পায়নি কোন সরকারি সহায়তা। এক ছেলে ও দুই মেয়ে সন্তানকে নিয়ে অনাহারে-অনাদরে কেটেছে জীবন।
মুক্তিযুদ্ধে ঝালকাঠির শরিফ বাড়ি গণহত্যায় একদিনেই মারা যান ১৭ জন। বৃদ্ধা সকিনা বেগম আহাজারি করে বলেন, এতো বছর যেহেতু অসহায়ভাবে কেটেছে, এখন আর সরকারের কাছে কিছুই চাওয়ার নেই। কিন্তু যে এই দেশের জন্য মারা গেলো, তার কবরটা সরকার করে দিক, এটাই চাওয়া।
শরিফবাড়ি পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হয়েছে শহিদ আব্দুস সালামকে। পাঁচ মিনিটের পথ হেঁটে এগিয়ে আরেকটি গোরস্থানে শহিদ আবুল হোসেন মাঝির কবর পাওয়া যায়। রমানাথপুর শরীফবাড়ি মসজিদের ঘটনায় ওইদিন একমাত্র বেঁচে যান পাশের শশাঙ্ক (আলীপুর) গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক খান।
আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মিজানুর রহমান খান জানান, একমাত্র আমার বাবা বেঁচে গেলেও আমার আপন বড় চাচা আবদুল জব্বার খান শহিদ হন। ওই দিন মোট ১৭ জনকে গুলি করা হয়।
/ইউএমএইচ