মুক্তিযুদ্ধের সময় মসজিদেও গণহত্যা

ঝালকাঠি প্রতিনিধি

সারাদেশ

ঝালকাঠি সদর উপজেলার কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়নের রমানাথপুর গ্রামে ১৯৭১ সালের মে মাসে এক নারকীয় গণহত্যা চালায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। বিশেষ করে

2026-03-25T18:23:53+00:00
2026-03-25T18:24:49+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
মুক্তিযুদ্ধের সময় মসজিদেও গণহত্যা
ঝালকাঠি প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬, ৬:২৩ পিএম  আপডেট: ২৫.০৩.২০২৬ ৬:২৪ পিএম
রমানাথপুর শরীফবাড়ি জামে মসজিদ। ছবি : সময়ের আলো
ঝালকাঠি সদর উপজেলার কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়নের রমানাথপুর গ্রামে ১৯৭১ সালের মে মাসে এক নারকীয় গণহত্যা চালায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। বিশেষ করে রমানাথপুরের শরীফবাড়ি জামে মসজিদ থেকে মুসল্লিদের বের করে এনে হাত বেঁধে ফসলের মাঠে (কোলায়) দাঁড় করিয়ে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা শহীদুল ইসলাম জানান, ঘটনার দিন প্রখ্যাত ‘বারো চান্দের খুৎবা’ বইয়ের লেখক আলহাজ মাওলানা শরীফ আব্দুল কাদির উপস্থিত থেকে পাকিস্তানি বাহিনীকে বাধা দিলেও তারা তা শোনেনি। 

অধিকাংশ প্রত্যক্ষদর্শীর মতে, ২১ মে মসজিদ থেকে বের করে নয়জনকে হত্যা করা হয়। 

এর আগে পাশের শশাঙ্ক হাওলাদার বাড়ির কাছারিঘর থেকে চারজনসহ আটজনকে এবং ২৩ মে রমানাথপুরের বিভিন্ন বাড়ি থেকে অজ্ঞাতসহ আরও সাত-আটজনকে হত্যা করা হয়।

স্থানীয় মোসলেম (মধু মাঝি) নিজের বাড়ির পেছনের একটি স্থান দেখিয়ে জানান, সেখানেই তিনি তার বাবা ও ভাইকে কবর দিয়েছেন। 

তিনি নিজ চোখে দেখা সেই ভয়াবহ স্মৃতিচারণ করে বলেন, প্রথমে ভাই লতিফ মাঝি ও চাচাতো ভাই হাশেম মাঝিকে মসজিদ থেকে ধরে এনে হত্যা করা হয়। এরপর বাড়ির সামনেই বাবা আহমেদ মাঝি ও চাচা আব্দুল মাঝিকে হত্যা করা হয়। আমার ভাইয়ের বুকটা গুলিতে ঝাঁঝরা করে ফেলেছিল, লাশ রক্তে চেনা যাচ্ছিল না। একটা টিনে করে লাশ এনে পুরনো একটি চাদরে মুড়িয়ে দাফন করেছি।

একই দিনে পাশের গ্রামে তার শ্বশুর এনাজুদ্দিন মিয়া, শ্যালক নুরুল হক মিয়া ও ভাই আব্দুল হাকিম মিয়াকেও গুলি করে মারা হয়।

স্থানীয় আমিনুল ইসলাম জানান, সেদিন মসজিদ থেকে নয়জনকে ধরে এনে হাওলাদার বাড়ির দরজায় বেঁধে রেখেছিল পাকিস্তানি সেনারা। পরে মাঠের একটি উঁচু জায়গায় নিয়ে তাদের ওপর ব্রাশফায়ার করা হয়। এতে আটজন মারা গেলেও একজন ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান। ওই পথ দিয়ে আসার সময় রমানাথপুরের স্থানীয় পোস্টমাস্টার শাহজাহান হাওলাদারকেও দেখামাত্র গুলি করে হত্যা করে হানাদাররা।

​শহীদ জেন্নাত আলী মৃধাকে যখন হত্যা করা হয়, তখন তার স্ত্রী সকিনা বেগমের গর্ভে ছিল এক সন্তান এবং ছোট দুটি মেয়ে। সেই গর্ভজাত সন্তান আব্দুল গনি এখন ৫৪ বছর বয়সে দিনমজুর হিসেবে কাজ করে জীবন অতিবাহিত করছেন।

শহীদ আব্দুল মন্নান হাওলাদারের ভাই আব্দুর রব হাওলাদার জানান, তার ভাই তখন চামটা মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। তাদের পারিবারিক কবরস্থানে বাবা ও সন্তানের কবরের নামফলক একসঙ্গে লাগানো, যেখানে মৃত্যু তারিখ লেখা আছে ২১ ও ২৩ মে। এই তারিখ থেকে ধারণা করা হয় শরীফবাড়ি মসজিদের ঘটনাটি ২৩ মে ঘটেছিল, যদিও অধিকাংশের মতে তারিখটি ছিল ২১ মে।

তথ্য সহায়তা : মুক্তিযুদ্ধ গবেষক ইসমাইল মুসাফির।

সময়ের আলো/আরবিএন 


  বিষয়:   ঝালকাঠি  কীর্ত্তিপাশা  রমানাথপুর  পাকিস্তান 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: