সুগন্ধা নদীর পাড়ে গণহত্যা

ঝালকাঠি প্রতিনিধি

সারাদেশ

একাত্তরের ৩০ মে ঝালকাঠি সদর উপজেলার পোনাবালিয়া থেকে ১২৮ জন এবং সাচিলাপুরের আশপাশ থেকে ৬৮ জনসহ মোট ১৯৬ জনকে সুগন্ধা

2026-03-25T18:57:11+00:00
2026-03-25T18:57:11+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
সুগন্ধা নদীর পাড়ে গণহত্যা
ঝালকাঠি প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬, ৬:৫৭ পিএম 
অনিল কংশবণিক। ছবি : সময়ের আলো
একাত্তরের ৩০ মে ঝালকাঠি সদর উপজেলার পোনাবালিয়া থেকে ১২৮ জন এবং সাচিলাপুরের আশপাশ থেকে ৬৮ জনসহ মোট ১৯৬ জনকে সুগন্ধা নদীর পাড়ে (বর্তমান পৌর খেয়াঘাট) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এই গণহত্যার শিকার ১৯৬ জনের মধ্যে ১৯৫ জনই ছিলেন হিন্দু ধর্মাবলম্বী এবং একজন ছিলেন মুসলিম, যার নাম আনসার আলী খান। 

তবে এই ১৯৬ জনের বাইরে ১৯৭তম ব্যক্তি হিসেবে বেঁচে ফেরেন বরিশালের অমল কংশবণিক, যিনি এই ভয়াবহ গণহত্যার একমাত্র জীবন্ত সাক্ষী।

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অমল কংশবণিক বলেন, আমাদের ১৯৭ জনকে ঝালকাঠি থানায় এক রাত আটকে রাখা হয়েছিল। ভোর থেকে চারজন করে দীর্ঘ সারিতে দাঁড় করিয়ে সুগন্ধা নদীর পাড়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং গুলি করে মারা হয়। সারির শেষের দিকে থাকা ১০ বছরের আমাকে দেখে এক পুলিশের দয়া হয়। তিনি আমার হাতের রশি খুলে দিয়ে পালাতে বলেন। আমি নদী সাঁতরে কোনোমতে ওপারে উঠলে মাঝিরা আমাকে উদ্ধার করে প্রাণে বাঁচায়।

ঘটনার দিনটি ৩০ মে নিশ্চিত করে ঝালকাঠির স্থানীয় চাঁদ মোহন কংশবণিক জানান, সেদিন তার আপন বড় ভাই সতীশ চন্দ্র কংশবণিক এবং ভাইয়ের দুই ছেলে সুধীর চন্দ্র কংশবণিক ও সুনীল চন্দ্র কংশবণিকসহ বংশের অনেককেই হত্যা করা হয়। নিহতদের তালিকায় আরও ছিলেন অনিল কংশবণিক, সুবল চন্দ্র কংশবণিক, রাখাল চন্দ্র কংশবণিক, মনোরঞ্জন সাহা, গোপাল সাহা, রামপ্রসাদ চক্রবর্তী, নিরুপদী চক্রবর্তী, গৌরঙ্গ দাস (ধোপা), পরান সাহা, যামিনী সাহা, গুপিনাথ সাহা ও মদন সাহাসহ অসংখ্য মানুষ।

শহীদ পোস্টমাস্টার শাহজাহান হাওলাদারের স্ত্রী জমিলা বেগম জানান, আমার স্বামীকে গুলি করে মারার দুদিন আগে ১৯ মে শুক্রবার আমাদের একটি ছেলে হয়েছিল। ২১ মে (রোববার) তাকে মারার পাঁচ দিন পর ২৬ মে সাত দিনের সেই শিশুটিও মারা যায়। তার বাবা নাম রেখেছিলেন এনায়েত। 

আড়াই বছরের আরেক ছেলেকে নিয়ে ৫৪ বছর আগে বিধবা জীবনে পা রাখতে বাধ্য হওয়া এই নারী আজ স্বামীর কবরের নামমাত্র চিহ্নের সামনে দাঁড়িয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেন। 

স্বামীর প্রশিক্ষণের নোট খাতা হাতে নিয়ে তিনি বলেন, ১৯৭২ সালে শেখ মুজিবের পাঠানো দুই হাজার টাকার একটি চেক পেয়েছিলাম। এর বাইরে এখন পর্যন্ত স্বামীর শহীদ মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি মেলেনি এবং কোনো সরকার কবরটিও বাঁধিয়ে দেয়নি।

তথ্য সহায়তা : মুক্তিযুদ্ধ গবেষক ইসমাইল মুসাফির।

সময়ের আলো/আরবিএন 


  বিষয়:   ঝালকাঠি  পোনাবালিয়া  গণহত্যা  সুগন্ধা  নদী  পাকিস্তান 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: