যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনার আভাসে নেতানিয়াহুর ওপর বাড়ছে চাপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

সোমবার ইসরায়েল ইরানের ভেতরে একাধিক বিমান হামলা চালানোর পর রাতে ইরানও পাল্টা হিসেবে উত্তর ও দক্ষিণ ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র

2026-03-25T21:46:57+00:00
2026-03-25T21:46:57+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনার আভাসে নেতানিয়াহুর ওপর বাড়ছে চাপ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬, ৯:৪৬ পিএম 
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি : সংগৃহীত
সোমবার ইসরায়েল ইরানের ভেতরে একাধিক বিমান হামলা চালানোর পর রাতে ইরানও পাল্টা হিসেবে উত্তর ও দক্ষিণ ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে। 

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি), গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ের স্থাপনা, অস্ত্রভাণ্ডার এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

তেল আবিবের উত্তরে সাম্প্রতিক বিস্ফোরণে বেশ কয়েকটি ভবনের বারান্দা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দেয়ালের অংশ ভেঙে পড়ে। স্থানীয়দের মতে, একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হানে, তবে অল্পের জন্য বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো যায়। এতে অন্তত ছয়জন আহত হলেও কেউ গুরুতর আহত হননি।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য নতুন আলোচনা নিয়ে দুই পক্ষ থেকেই ভিন্নধর্মী ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র সেখানে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে, যা ইসরায়েলের কৌশলের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। সাবেক ইসরায়েলি সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা মাইকেল মিলস্টিনের মতে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চান এবং তিনি কোনো সমঝোতার পক্ষে নন। তবে যুক্তরাষ্ট্র যদি আলোচনার পথে এগোয়, তাহলে নেতানিয়াহু কঠিন অবস্থায় পড়তে পারেন।

তার ভাষায়, পরিস্থিতি এমন যে আলোচনায় গেলে যুদ্ধ চালানো কঠিন হবে, আবার যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ দিয়েও এককভাবে যুদ্ধ চালানো সম্ভব নয়। ফলে শেষ পর্যন্ত তাকে কোনো না কোনো সমঝোতা মেনে নিতে হতে পারে।

অন্যদিকে নেতানিয়াহু জনগণকে আশ্বস্ত করে আসছেন যে এই যুদ্ধ ইরান ও তার মিত্রদের হুমকি দূর করবে। ফলে সম্ভাব্য যেকোনো চুক্তিকে গ্রহণযোগ্য করতে হলে তার জন্য উচ্চ মানদণ্ড পূরণ করতে হবে।


ইসরায়েলের ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বলছেন, যুদ্ধ শেষ করতে হলেও এমনভাবে শেষ করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে ইরান আবার হুমকি হয়ে ফিরে না আসে। অতীতে ‘কন্টেইনমেন্ট’ নীতি ব্যর্থ হওয়ার উদাহরণও তারা তুলে ধরছেন।

এদিকে ইসরায়েল লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে একটি নিরাপত্তা অঞ্চল তৈরির পরিকল্পনা করছে এবং হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে, এমনকি ইরানের সঙ্গে সমঝোতা হলেও।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান নিজেকে দুর্বল মনে করছে না, বরং তারা ক্ষতিপূরণ ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দাবি করতে পারে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে, ইরান সহজেই তাদের শর্ত মেনে নেবে—এই পার্থক্যের কারণে সমঝোতা কঠিন হয়ে পড়ছে।

এছাড়া হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ তাদের কৌশলগত অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কিছুটা নরম হয়েছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

নতুন আলোচনার সম্ভাবনা থাকলেও পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। সংঘাত এমন এক পর্যায়ে রয়েছে, যেখানে কোনো পক্ষই এতটা দুর্বল হয়নি যে সহজে প্রতিপক্ষের শর্তে সমঝোতায় যেতে বাধ্য হবে।


/ইউএমএইচ


  বিষয়:   যুক্তরাষ্ট্র–ইরান  নেতানিয়াহু 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: