মহান স্বাধীনতা দিবসে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্য দিবালোকে শহিদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেছে। এই ঘটনার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রশ্ন উঠেছে— কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পরও সংগঠনটির নেতাকর্মীরা কীভাবে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে এমন কর্মসূচি পালন করল?
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যায় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ফেসবুক পেজ থেকে এ সংক্রান্ত কয়েকটি ছবি পোস্ট করা হয়।
পোস্টে দেখা যায়, কয়েকজন যুবক ফুল হাতে শহিদ মিনারের সামনে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। পোস্টে উল্লেখ করা হয়, স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সাতকানিয়া উপজেলা ও ২ নম্বর খাগরিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের উদ্যোগে চরখাগরিয়া খাদিম আলী চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের শহিদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও সংগঠনটির কিছু কর্মী এলাকায় সক্রিয় রয়েছে এবং সুযোগ পেলেই বিভিন্ন জাতীয় দিবসে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে।
একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তারা দলবদ্ধভাবে এসে ফুল দিয়ে ছবি তোলে। কেউ বাধা দেয়নি। মনে হয়েছে তারা আগেই পরিকল্পনা করে এসেছে।
ঘটনার পর সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে। এ ধরনের কর্মসূচি আয়োজনের আগে গোয়েন্দা নজরদারি বা পুলিশের কোনো তৎপরতা ছিল কিনা— তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করছেন অনেকে।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, নিষিদ্ধ ঘোষণার পরও যদি কোনো সংগঠন প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালাতে পারে, তাহলে তা প্রশাসনিক দুর্বলতা কিংবা উদাসীনতারই বহিঃপ্রকাশ।
তাদের মতে, প্রশাসনের চোখের সামনে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে সাধারণ মানুষ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে।
তবে এ বিষয়ে জানতে সাতকানিয়া উপজেলা প্রশাসন বা স্থানীয় থানা পুলিশের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।